ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করা কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। অস্ত্র সরবরাহে বিলম্ব এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানে সীমাবদ্ধতার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধ বন্ধ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের এমন কিছু সিদ্ধান্ত রয়েছে, যা বন্ধুদের মধ্যে ব্যাখ্যা করা কঠিন।
জেলেনস্কি জানান, ড্রোন হামলা চালানো এবং রাশিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় স্টারশিল্ড ব্যবস্থার ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপের বিষয়ে ইউক্রেন এখনো পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা পায়নি। বিশেষ করে দ্রুতগতির জেটচালিত ড্রোনের হামলা মোকাবিলায় এ ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে।
টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি বলেন, গত এক সপ্তাহে তিনবার ইউক্রেন আগাম হামলার সতর্কবার্তা পায়নি। সাধারণত তাদের মিত্ররা এ ধরনের সতর্কবার্তা দিয়ে থাকে।
জেলেনস্কি আরও বলেন, পিইউআরএল কর্মসূচির আওতায় ইউক্রেনের মিত্ররা যে ক্ষেপণাস্ত্রের মূল্য পরিশোধ করেছে, পেন্টাগন সেগুলো সরবরাহে বিলম্ব করছে। তার জানা অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রের একটি চালান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের মতে, এসব ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দেশটির প্রতি সামরিক সহায়তা কমিয়ে দেওয়ার বিষয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা ৩০ দিনের জন্য বন্ধ রাখতে ইউক্রেন প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। তবে এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় আকাশ প্রতিরক্ষার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করতে হবে বলে জানান তিনি।
জেলেনস্কি আরও আশা প্রকাশ করেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নরওয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ইউক্রেনের একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠক হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
