ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আফগানিস্তান। শুক্রবারের ফাইনালে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে তারা। ব্যাটে-বলে বাংলাদেশের ওপর পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করে জয় তুলে নিয়েছে আফগানরা।
বাংলাদেশের দেওয়া ১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ৩৫.৩ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে আফগানিস্তান। অধিনায়ক রহমত শাহ অপরাজিত ৬৭ রান করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটি আফগানিস্তানের টানা পঞ্চম জয়।
আফগানিস্তানের জয়ের ভিত গড়ে দেন বোলাররা। পেসার ইয়ামিন আহমদজাই ও আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের তোপে সপ্তম ওভারেই ২৮ রানে চার উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে বাংলাদেশ। পরে রশিদ খান চার উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত ৪৬.৩ ওভারে ১৬০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।
আহমদজাই ও ওমরজাই দুটি করে উইকেট নেন। মোহাম্মদ নবী ও বিলাল সামি পান একটি করে উইকেট।
ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই বাংলাদেশকে ধাক্কা দেন আহমদজাই। তার সুইং করা বলে ব্যাট ছোঁয়ান তানজিদ হাসান। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে মাত্র ১ রানে ফেরেন তিনি। পরের বলেই বোল্ড হন সৌম্য সরকার। আক্রমণাত্মক ড্রাইভ খেলতে গিয়ে নিজের উইকেট হারান এই বাঁহাতি ব্যাটার।
এরপর নাজমুল হোসেন শান্তকে চাপে রাখেন ওমরজাই। সপ্তম ওভারে তার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন শান্ত। একই ওভারে ওমরজাইয়ের হাতে ফিরতি ক্যাচ তুলে দেন তাওহিদ হৃদয়। এক হাতে দুর্দান্ত ক্যাচটি নেন আফগান পেসার। মাত্র ২৮ রানেই চার উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।
সেই বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন সাইফ হাসান। কভার অঞ্চলে দৃষ্টিনন্দন কয়েকটি ড্রাইভে রান তোলেন তিনি। অন্য প্রান্তে তাকে সঙ্গ দেন চোট পাওয়া নতুন অধিনায়ক লিটন দাসের পরিবর্তে দলে সুযোগ পাওয়া পারভেজ হোসেন ইমন।
মোহাম্মদ নবী ও রশিদ খানের বলে সুইপ শটে তিনটি চার মারেন ইমন। বিলাল সামির বলে পুল করে ছক্কাও হাঁকান তিনি। তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অর্ধশতক। তবে পরের বলেই আউট হন সাইফ। নবীর ধীরগতির অফ স্পিনে অপ্রয়োজনীয় বড় শট খেলতে গিয়ে আকাশে বল তুলে দেন তিনি। কভার অঞ্চলে ক্যাচ নেন ফিল্ডার।
পঞ্চম উইকেটে সাইফ ও ইমনের ৯৩ রানের জুটি বাংলাদেশকে লড়াইয়ে ফেরার আশা দেখিয়েছিল। কিন্তু সাইফের বিদায়ের পর আবারও ভেঙে পড়ে দলের ব্যাটিং।
লেজের ব্যাটারদের নিয়ে খুব বেশি কিছু করার ছিল না বাংলাদেশের। রশিদ খান একে একে ফেরান শরীফুল ইসলাম, ইমন, আলিস আল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমানকে। ৯৬ বলে পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কায় ৭০ রান করেন ইমন। রশিদের দুর্দান্ত স্লাইডারে এলবিডব্লিউ হয়ে থামে তার ইনিংস।
নবী দারুণভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্যাচ নেন আলিসের। এরপরের বলেই মোস্তাফিজুরকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন রশিদ। ইমন ছাড়া বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটারই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি।
১৬১ রানের লক্ষ্য দিয়ে ম্যাচ বাঁচাতে হলে শুরুতেই উইকেট প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু তাসকিন আহমেদ শুরুতে দুটি বড় ওয়াইড দিয়ে চাপ বাড়ান। অবশ্য তৃতীয় ওভারে রহমানউল্লাহ গুরবাজকে দুর্দান্ত ইনসুইংয়ে বোল্ড করে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেন তিনি।
এরপর সেদিকউল্লাহ আতাল তাসকিনের বলে কভার ড্রাইভে চার মারেন। বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স তখন তাসকিনকে বাঁহাতি ব্যাটারের বিপক্ষে উইকেটের চারপাশ থেকে বল করার নির্দেশ দেন। সেই কৌশল কাজে লাগে। দারুণ সুইংয়ে আতালকে বোল্ড করেন তাসকিন।
তবে এরপর আর কোনো বড় ধাক্কা দিতে পারেনি বাংলাদেশের বোলাররা। রহমত শাহ ও ইব্রাহিম জাদরান শুরুতে সতর্ক ব্যাটিং করেন। পাঁচ ওভারেরও বেশি সময় ধরে বড় শট খেলা থেকে বিরত থাকেন তারা।
পরে রহমত শাহ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। নাসুম আহমেদের বলে পয়েন্ট দিয়ে চার মারার পর পরের ওভারে মিড অফের ওপর দিয়ে হাঁকান আরেকটি চার। ১৮তম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে দুটি চার মারেন তিনি। একই বোলারের বলে পুল করে চার তুলে নেন ইব্রাহিমও।
তবে ৩৪ রান করা ইব্রাহিমকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে কিছুটা স্বস্তি দেন মোস্তাফিজুর। তার ধীরগতির বলে টপ এজ হলে মিড অনে ক্যাচ নেন শান্ত। তৃতীয় উইকেটে রহমত ও ইব্রাহিমের জুটিতে আসে ৫৬ রান।
এরপর হাশমতউল্লাহ শহিদিকে নিয়ে অনায়াসেই জয়ের পথে এগিয়ে যান রহমত। ওয়ানডেতে নিজের ৩৪তম অর্ধশতক পূর্ণ করেন আফগান অধিনায়ক। ২৮তম ওভারের শুরুতে এক রান নিয়ে স্কোর ১২১-এ পৌঁছালে নিশ্চিত হয়ে যায় ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে আফগানিস্তানের জায়গা। একই সঙ্গে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় বাংলাদেশ।
এরপর তাসকিনের বলে স্কয়ার লেগ দিয়ে চার মারেন শহিদি। ৩০তম ওভারে নাসুমের বলে পরপর দুটি চার হাঁকান তিনি।
শেষ পর্যন্ত ৯০ বলে পাঁচটি চারের সাহায্যে ৬৭ রানে অপরাজিত থাকেন রহমত শাহ। ৫৪ বলে ৩৬ রান করে অপরাজিত ছিলেন শহিদি। চতুর্থ উইকেটে তাদের অবিচ্ছিন্ন ৬৬ রানের জুটিতে ১৪.৩ ওভার হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে আফগানিস্তান।
