মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী আকৃতি হাওড়ার বালির আনন্দনগরের বাসিন্দা।
Published on
:
2 min read
বৃৃৃষ্টি শুরু হতেই ভিড়ের প্রবল চাপ। সেই সময়ে মণ্ডপ থেকে বেরোতে গিয়েই ঠেলাঠেলিতে মাটিতে পড়ে গিয়েছিল হাওড়ার বছর সতেরোর আকৃতি কুমারী। সঙ্গে থাকা মামা-মামি এবং দিদি তাকে তোলার অনেক চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে পিছনের পুরো ভিড়টাই সামনে এসে পড়ে। ধাক্কার চোটে টাল সামলাতে পারেননি মামা-মামি এবং দিদিও। তবে শেষমেশ তাঁরা প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। শুধু ঘরে ফেরা না হলো না আকৃতিরই!
মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী আকৃতি হাওড়ার বালির আনন্দনগরের বাসিন্দা। শনিবার তাঁরা বিকেল ৫টা নাগাদ ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছিলেন। সন্ধ্যার দিকে তাঁরা চোরবাগানে পৌঁছন। সেই সময়েই ওই পুজো মণ্ডপে বিপর্যয় ঘটে। তার কিছু ক্ষণ পরে বাড়িতে ফোন আসে। জানানো হয়, আকৃতি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর পরেই পরিবার এবং প্রতিবেশীরা হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারেন, কিশোরী মারা গিয়েছে।
এক পড়শি জানান, আকৃতিদের সঙ্গে ভিআইপি পাস ছিল। তা দিয়েই তাঁরা মণ্ডপে প্রবেশ করেন। তখনই বৃষ্টি শুরু হয়। বাইরে যাঁরা লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন, বৃষ্টি থেকে বাঁচতে তাঁরা মণ্ডপে ঢুকে পড়েন। আর মণ্ডপের ভিতরে যাঁরা ছিলেন, তাঁরাও বাইরে বেরোচ্ছিলেন না। ফলে একটা সময়ে পরে ভিড়ের চাপে বাঁধ ভেঙে যায়। পিছনের পুরো ভিড়টা এসে পড়ে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শনার্থীদের উপরে। তাতেই পড়ে গিয়ে পদপিষ্ট হন আকৃতি।
রবিবার সকাল থেকেই পাড়া-প্রতিবেশীদের ভিড় আকৃতিদের বাড়িতে। কথা বলার মতো অবস্থাতেও নেই কিশোরীর মা। এক প্রতিবেশী বলেন, ‘আমার নিজের বোন নেই। আকৃতি প্রতি বছর আমাকে রাখি পরাত। এখন আর রাখি পরানোর কেউ রইল না।’ এই ঘটনার পুজো কমিটির গাফিলতিকেই দায়ী করেছেন পরিবারের লোকেরা। প্যান্ডেলে ঢোকা এবং বেরোনোর রাস্তা সরু হওয়ার কারণে এই দুর্ঘটনা বলে তাঁদের মত। তাঁরা চান এই ঘটনার প্রকৃত তদন্ত হোক। দোষী যেন শাস্তি পায়।
