
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নারাইনপাশা এলাকার আলোচিত চা বিক্রেতা দুরুদ মিয়া হত্যা মামলায় ছাদিক মিয়া নামে এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় অপর সাত আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুরে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শামসাদ বেগম এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১২ জুন সকালে নারাইনপাশা এলাকার চা বিক্রেতা দুরুদ মিয়া তাঁর কাছে পাওনা ১ হাজার ২৬৩ টাকা ছাদিক মিয়ার কাছে চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাদিক ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। কিছুক্ষণ পর দলবল নিয়ে ফিরে এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুরুদ মিয়াকে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিহতের ছেলে মকবুল মিয়া আটজনকে আসামি করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৩০২ ধারায় ছাদিক মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। মামলার অপর আসামি তছকির মিয়া, সিরাজ মিয়া, নুরুল ইসলাম, ছাইফুর রহমান, আতাউর রহমান, শফিক মিয়া ও আছাব মিয়াকে খালাস দেওয়া হয়।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট নিয়ামুল হক বলেন, দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় মামলার জট কমছে এবং বিচারপ্রার্থীরা উপকৃত হচ্ছেন। পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ড. আব্দুল মতিন চৌধুরী বলেন, প্রকৃত অপরাধীর দণ্ডের মধ্য দিয়ে বাদীপক্ষসহ সাধারণ মানুষের আইনের প্রতি আস্থা ও শ্রদ্ধা আরও বাড়বে।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নিহত দুরুদ মিয়ার স্বজনরা বলেন, তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন। অন্যদিকে, রায় ঘোষণার পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছাদিক মিয়া ও তাঁর স্বজনদের আদালত প্রাঙ্গণে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।
