প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (বাঁ দিকে) এবং প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ (ডান দিকে)ছবি: X
Published on
:
2 min read
নিছক মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ নয়, কেন্দ্রে সরকার ফেলে দেওয়াই ককরোচ জনতা পার্টি আর বিরোধীদের আসল লক্ষ্য বলে অভিযোগ বিজেপির। বৃহস্পতিবার সেই অভিযোগ কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। তিনি বলেছেন, ‘হ্যাঁ, আমরা কেন্দ্রের সরকারের বদল চাই।’ শুক্রবার তার পাল্টা জবাব দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও।
AISA-র নেত্রী নেহা বোরা এবং CJP-র অভিজিৎ দীপকেকে পাশে বসিয়ে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন প্রশান্ত ভূষণ। সেখানে তিনি সরাসরি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা সবাই কেন্দ্রের সরকারে বদল চাই। এতে কোনও সমস্যা আছে?’ বিজেপিও অতীতে সরকার বদলের লক্ষ্যে একাধিক আন্দোলন করেছে বলেও দাবি তাঁর। প্রশান্ত ভূষণের কথায়, ‘এখন ওদের মুখে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব মানায় না।’ তাঁর আরও দাবি, গণতন্ত্রে সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ ছড়ানো কোনও অপরাধ নয়।
এ দিন লখনৌয়ের একটি জনসভা থেকে বিরোধীদের পাল্টা আক্রমণ শানান রাজনাথ সিং। বিরোধীরা দেশে অরাজকতা ছড়াতে চাইছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে যে ভাবে সরকার বদলে দেওয়া হয়েছিল, ভারতেও তেমন পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে।’ বিরোধীরা দেশের যুবসমাজকে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েই যন্তর মন্তরে তাঁরা বিক্ষোভ চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন নেহা। তা নিয়ে শোরগোলও হয়েছিল বিস্তর। সেই মন্তব্যের উদাহরণ টেনে রাজনাথ বলেন, ‘একজন সাংবাদিক বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার কথা বলছেন, আর একজন সরকার ফেলে দেওয়ার ডাক দিচ্ছেন, এতে তাঁদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট।’ রাহুল গান্ধীকে সতর্ক করে দেন রাজনাথ। কড়া সুরে বলেন, ‘গণতন্ত্র মানে বিশৃঙ্খলা ছড়ানো বা ভারতের উন্নয়নের পথে বাধা তৈরি করা নয়।’
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া বিক্ষোভ থেকে সরকার বদলের দাবি ওঠায় শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিশেষ করে বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনকে টেনে আনায় শুরু হয়েছে জলঘোলা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাঁরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে পথে নেমেছেন। প্রশান্ত ভূষণ, নেহা বোরাদের বক্তব্য টেনে বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, এই আন্দোলনের আড়ালে সরকার ফেলার পরিকল্পনা চলছে।
