Published on
:
2 min read
এই সময়, ক্যানিং: ফের বিতর্কে ক্যানিং পশ্চিমের কালীঘাটপন্থী তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাস। শুক্রবার আচমকাই তাঁর ক্যানিংয়ের মিঠাখালির বাড়িতে হানা দেয় বিরাট পুলিশ বাহিনী। মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। বারুইপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জ়োনাল) অতীশ বিশ্বাসের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশরাম দাসের মিঠাখালির বাড়িতে পৌঁছয়। বাড়ির চারপাশ ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। এর পর বাড়ির ভিতরে চিরুনি তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। বিধায়কের বাড়ি ছাড়াও আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়।
দীর্ঘক্ষণ বাড়ি ঘিরে রেখে তল্লাশি চালানো হলেও বিধায়ককে বাড়িতে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পুলিশের তরফে বারবার বিধায়ককে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। শেষ পর্যন্ত বিধায়কের বাড়ি থেকে তাঁর ঘনিষ্ঠ তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান–সহ মোট চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। কয়েকদিন আগে ক্যানিং থানায় পরেশরামের বিরুদ্ধে এক মহিলা ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। এই মামলায় গ্রেপ্তারি এড়াতে বিধায়ক দু’বার আলিপুর আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেছেন। তার মধ্যেই পুলিশ তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে। এ দিনের অভিযানে ছিলেন ক্যানিং থানার পুলিশ–সহ বারুইপুর জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।
তবে এই ঘটনা নিয়ে বারুইপুরের পুলিশ সুপার অরবিন্দ কুমার আনন্দ কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি। বিধায়কের বাড়িতে এই অভিযানকে ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। এমনিতেই তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাস চালানো–সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিজেপির জয়নগর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি উৎপল নস্কর বলেন, ‘ক্যানিং পশ্চিম বিধানসভা এলাকায় তৃণমূলের বিধায়ক এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। সমস্ত ধরনের অপরাধ সংগঠিত হয়েছে তাঁর নেতৃত্বে। তাই আইন আইনের পথে চলবে।’
