আজকাল ওয়েবডেস্ক: গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৭-এর প্রস্তুতি থেকে সুন্দরবনের উন্নয়ন, একগুচ্ছ কর্মসূচি নিয়ে আগামিকাল শনিবার কাকদ্বীপে যাচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সাজো সাজো রব কাকদ্বীপে। প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি কাকদ্বীপ স্টেডিয়াম ময়দানে একটি জনসভাতেও বক্তব্য রাখবেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে পালাবদলের পর নতুন সরকারের অধীনে প্রথম গঙ্গাসাগর মেলা হতে চলেছে ২০২৭ সালে। তাই আসন্ন মেলাকে সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করাই এবারের সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, শনিবার কাকদ্বীপে প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বর্তমান পরিস্থিতি, উন্নয়নমূলক কাজকর্ম, প্রশাসনিক পরিকাঠামো এবং সুন্দরবনের বিভিন্ন সমস্যার পাশাপাশি গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৭-এর প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে মেলায় পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা, যাতায়াত, পরিবহণ, পানীয় জল, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং নদীপথে পারাপারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
প্রতিবছর মকর সংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে গঙ্গাসাগরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগম হয়। পুণ্যার্থীদের ভিড় সামলানো, কচুবেড়িয়া থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত যাতায়াত ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করা প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই কথা মাথায় রেখেই আগাম প্রস্তুতি ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন সরকারের অধীনে গঙ্গাসাগর মেলাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার পরিকল্পনা নিয়েও আগ্রহ রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে কাকদ্বীপ স্টেডিয়াম ময়দানে গিয়ে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানা, সাগরের বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক, সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার-সহ বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকেরা। সভাস্থলের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখা হয়। এরপর মহকুমা শাসকের দফতরে প্রশাসনিক বৈঠকও করেন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয়ের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানা বলেন, 'শনিবার কাকদ্বীপে আসবেন মুখ্যমন্ত্রী। তার আগে সমস্ত প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকও করা হয়েছে।' এদিকে, গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলার স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি দীর্ঘদিনের। আগামী দিনে এই মেলাকে জাতীয় মেলা হিসেবে ঘোষণা করার বিষয়টিও প্রশাসনিক বৈঠকে উঠে আসে কি না, সেদিকে নজর থাকবে। পাশাপাশি সুন্দরবনের প্রশাসনিক কাঠামো, উন্নয়ন এবং পৃথক জেলা গঠনের বিষয় নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে। যদিও এই বিষয়ে বৈঠকের আগে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।
প্রশাসনিক বৈঠকে জেলা পরিষদের বিভিন্ন আধিকারিক এবং পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা। বৈঠকের পর কাকদ্বীপ স্টেডিয়াম ময়দানের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী কী বার্তা দেন, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি, সুন্দরবনের উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক পরিকল্পনাকে সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রীর কাকদ্বীপ সফর ঘিরে বাড়ছে প্রত্যাশা। এখন নজর শনিবারের প্রশাসনিক বৈঠক ও জনসভার দিকে।
