অধিনায়কত্বের অধ্যায় শেষ হলেও দলের প্রতি দায়বদ্ধতায় কমতি পড়েনি নিগার সুলতানা জ্যোতির। একসময় যে দায়িত্ব নিজের কাঁধে ছিল, সেটি এখন সামলাবেন সতীর্থ নাহিদা আক্তার। নারী টি-টোয়েন্টি দলের নতুন অধিনায়কের পথচলা শুরুর আগেই তাকে শুভকামনা জানিয়ে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন জ্যোতি। নেতৃত্বের পরিবর্তনকে দলের ভেতরের দূরত্ব নয়, বরং নতুন সম্ভাবনা হিসেবেই দেখতে চান সাবেক এই অধিনায়ক।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার আগেই নতুন অধিনায়ককে অভিনন্দন জানালেন জ্যোতি। নেতৃত্বের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া সাবেক অধিনায়কের কণ্ঠে নেই কোনো আক্ষেপ, বরং নতুন দায়িত্বে নাহিদার সাফল্য কামনার পাশাপাশি তার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জ্যোতি।
দলের সাম্প্রতিক ব্যর্থতায় বেশ চাপের মুখেই ছিলেন জ্যোতি। নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপ ও এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে সেমিফাইনাল থেকে বিদায়ের পর তার ব্যাটিং ও নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এর মধ্যেই জাপানে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমস শুরুর আগে টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এরপর থেকেই আলোচনায় ছিল তার উত্তরসূরি কে হচ্ছেন। নাহিদা আক্তার ও সোবহানা মোস্তারির মধ্যে শেষ পর্যন্ত নাহিদাকেই বেছে নিয়েছে বিসিবি।
নাহিদার অধিনায়ক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিসিবির নারী উইংয়ের প্রধান রফিকুল ইসলাম বাবু। তবে বোর্ডের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা না করেই নতুন অধিনায়ককে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জ্যোতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘টি-টোয়েন্টি দলের নতুন অধিনায়ক নাহিদাকে আন্তরিক অভিনন্দন।’
নতুন দায়িত্বে নাহিদার সামর্থ্যের ওপর আস্থা রাখছেন জ্যোতি। তার বিশ্বাস, অভিজ্ঞ এই স্পিনার নিজের নেতৃত্বগুণ দিয়ে দলকে এগিয়ে নিতে পারবেন। জ্যোতি বলেন, ‘নতুন এই দায়িত্বে তার জন্য রইল অনেক শুভকামনা। আমি বিশ্বাস করি, সে নিজের সামর্থ্য ও নেতৃত্ব দিয়ে দলকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দলে আমাদের ভূমিকার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু আমাদের লাল-সবুজ পতাকার প্রতি আবেগ একই আছে, আমাদের লক্ষ্যও একই-বাংলাদেশ ক্রিকেটকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।’
অধিনায়কত্বের দায়িত্ব বদলালেও দলের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতায় কোনো পরিবর্তন আসেনি, সেটিও বুঝিয়ে দিয়েছেন জ্যোতি। নতুন অধিনায়কের পাশে থেকে দলীয় সাফল্যে অবদান রাখতে চান তিনি, ‘একজন সতীর্থ হিসেবে নাহিদার পাশে আছি, থাকব। দলের সাফল্যের জন্য আমার পক্ষ থেকে যতটুকু সহযোগিতা করা সম্ভব, তা করতে আমি সবসময় প্রস্তুত। আমরা একসঙ্গে অনেকটা পথ পাড়ি দিয়েছি। সামনে বাংলাদেশের জার্সিতে একসঙ্গে আরও অনেক সাফল্যের গল্প লিখতে চাই।’
নাহিদার নেতৃত্বে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পেতে পারেন সোবহানা মোস্তারি। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করে আলোচনায় আসেন তিনি। বাংলাদেশের প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের বিপক্ষে ওয়ানডে সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েছেন সোবহানা। নেতৃত্বের আলোচনায় তার পাশাপাশি রাবেয়া খাতুন, শারমিন আক্তার ও স্বর্ণা আক্তারের নামও ছিল।
এবার নতুন নেতৃত্বের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ নিজেদের সাম্প্রতিক ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠা। ডিসেম্বরেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। এর আগে দলকে নতুনভাবে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন নাহিদা। দীর্ঘদিন অধিনায়কত্ব সামলানো জ্যোতিও এবার নেতৃত্বের চাপমুক্ত হয়ে নিজের পারফরম্যান্সে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
নেতৃত্বের পরিবর্তন তাই জ্যোতির কাছে শেষের গল্প নয়, বরং নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার উপলক্ষ। অধিনায়ক হিসেবে নয়, এবার সতীর্থ হিসেবে নাহিদার সঙ্গে বাংলাদেশের সাফল্যের গল্প লিখতে চান তিনি!
