দেবীগঞ্জে দুর্গোৎসবের আমেজ, ১১৭ মণ্ডপে প্রস্তুত সিসি ক্যামেরা ও কড়া নিরাপত্তা
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
- আপডেট সময় : ০৪:৫১:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক ভোরের কন্ঠ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে উঠেছে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে উপজেলার ১১৭টি পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। কোথাও প্রতিমায় তুলির শেষ আঁচড়, কোথাওবা চলছে দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা ও মণ্ডপ সাজানোর কাজ। অন্যদিকে, ধর্মীয় উৎসবটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে জোরদার করা হয়েছে বহুমাত্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা।
উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর দেবীগঞ্জ উপজেলার ১১৭টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ মণ্ডপের ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পূজার দিনগুলোতে এসব মণ্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ঢল নামবে বলে আশা প্রকাশ করছেন আয়োজকেরা।
উৎসবের ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখা ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশেষ নিরাপত্তাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। প্রতিটি পূজামণ্ডপে বাধ্যতামূলক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজিৎ সাহা জানান, “সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদ্যাপনে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ২৬টি মণ্ডপে আটজন করে এবং সাধারণ মণ্ডপগুলোতে ছয়জন করে আনসার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে প্রতি মণ্ডপে ১০ থেকে ১৫ জন করে স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন। পাশাপাশি পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সার্বক্ষণিক টহলে ব্যস্ত থাকবেন এবং উপজেলা পর্যায়ে একটি সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও পর্যবেক্ষণকক্ষ চালু করা হয়েছে।”
নিরাপত্তার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মূসা বলেন, “প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক দলের পাশাপাশি ডিবি, এনএসআই, সাদাপোশাকের পুলিশ এবং থানা-পুলিশের টিম দায়িত্ব পালন করছে। কোনো দুষ্কৃতকারী যাতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা কঠোর সতর্ক অবস্থানে আছি। সন্দেহজনক কিছু নজরে এলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করছি।”
উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হরিশ রায় উৎসবের প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “মা দুর্গার আগমন পৃথিবীর সবার জন্য কল্যাণ বয়ে আনুক—এটাই আমাদের মূল প্রত্যাশা। সম্প্রীতির আবহ বজায় রেখে পঞ্চগড়ে এই উৎসব উদ্যাপিত হবে।”
পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার ষষ্ঠী তিথির মধ্য দিয়ে সূচনা হবে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। পরবর্তীতে ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ছয় দিনব্যাপী এই আড়ম্বরপূর্ণ উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
দেবীগঞ্জের সর্বস্তরের জনগণ ও আয়োজকদের আশা, প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত উদ্যোগে বরাবরের মতো এবারও আনন্দ, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়েই দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে।
