সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক মুহাম্মদ নাজমুল হাসান। তবে তাকে কবে নাগাদ দেশে ফেরানো সম্ভব হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে পারেননি তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কার্যক্রম চলমান আছে। যেহেতু এখানে শুধু আমরা নই, এখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি, যদি কোনো ধরনের কোনো হালনাগাদ তথ্য থাকে, আমরা জানাব।’
এর আগে গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হন বেনজীর আহমেদ। ১৪ জুন জাতীয় সংসদে তার গ্রেপ্তারের তথ্য তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এরপর ১৬ জুন তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র পুলিশের জাতীয় কেন্দ্রীয় ব্যুরোর (এনসিবি) মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায় দুদক। এসব নথির মধ্যে ছিল মামলার কাগজপত্র, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, আদালতের আদেশ ও তদন্তের তথ্য। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক পথে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষের কাছে নথিগুলো পাঠানোর কথা জানানো হয়েছিল।
পরে ২১ জুলাই দুদক জানায়, বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আগে মামলার নথিসহ কয়েকটি বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে দুবাই পুলিশ। তবে কী কী বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত প্রকাশ করেনি সংস্থাটি।
এর মধ্যে জুলাইয়ের শেষ দিকে বেনজীর দুবাইয়ে জামিন পেয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর আসে। ২ আগস্ট দুদক জানায়, তিনি কিসের ভিত্তিতে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন, সে বিষয়ে তাদের কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই। ওই দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বেনজীরের জামিন বাতিলের উদ্যোগ নিতে দুবাইয়ে একটি আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করেছে বাংলাদেশ সরকার। একই দিন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, বেনজীরকে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
/অ
