‘হিন্দুদের দিকে কেউ বাঁকা চোখে তাকালে সেই চোখ বাঁকাই থাকবে’: চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি

মো. জাফর ইকবাল, বিশেষ প্রতিনিধি, বরগুনা: জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, “হিন্দুদের দিকে কেউ বাঁকা চোখে তাকালে সেই চোখ বাঁকাই থাকবে, আর সোজা হবে না।” এ সময় তিনি আরও বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে পাথরঘাটায় হয় কিশোর গ্যাং থাকবে, নয়তো ওসি (থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) থাকবেন। মাদক নিয়ন্ত্রণে আরও জোরালো ভূমিকা পালনের জন্য তিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিমকে উদ্দেশ করে চিফ হুইপ কঠোর ভাষায় বলেন, “পাথরঘাটায় কোনো চাঁদাবাজের ঠাঁই নেই। হয় চাঁদাবাজরা থাকবে, নয়তো আপনি থাকবেন।” এ সময় তিনি ওসি আব্দুল আলিমকে প্রশ্ন করেন, “আপনি থাকবেন, নাকি চাঁদাবাজরা থাকবে? এখানে আপনাকে বলতে হবে।”
জবাবে ওসি আব্দুল আলিম বলেন, “স্যার, আমি থাকব, চাঁদাবাজরা থাকতে পারবে না।” আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে চিফ হুইপ বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন পূজামণ্ডপে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক নজরদারি রাখতে হবে।
নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও পাথরঘাটার মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের কথা তুলে ধরে চিফ হুইপ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “এই জনপদের জন্য নিজের জীবন-যৌবন উৎসর্গ করে দিলাম। অথচ গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাথরঘাটার মানুষ আমাকে আশানুরূপ ভোট দেয়নি। আমার জনগণ ভুল করেছে। এ জন্য রাগ করে থাকলে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই আমি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি।”
পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে পাথরঘাটায় এমন কোনো কাজ বাকি থাকবে না, যা তিনি করবেন না। জনগণের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি উন্নয়নমূলক কাজ করার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “ইনশাআল্লাহ, আপনাদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি কাজ করব।”
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, দেশের স্বার্থে ও উন্নয়নের স্বার্থে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাঁর পক্ষে কাজ করতে হবে।
দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার সকাল ১০টায় চিফ হুইপ আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মনি পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদে পৌঁছালে তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। এরপর তিনি সালামি মঞ্চ উদ্বোধন করেন এবং তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলার ৪৫টি পূজামণ্ডপের প্রতিটিতে ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা ও ১ টন করে চাল প্রদান করেন তিনি। এ ছাড়া তিনজন নিখোঁজ জেলের পরিবারের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
জুমার নামাজের পর তিনি পাথরঘাটা উপজেলার রায়হানপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের শুভ উদ্বোধন করেন। পরে বিকেল ৩টায় রায়হানপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে লেমুয়া বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৩১টি পরিবারের প্রত্যেককে দুই বান্ডিল করে টিন সহায়তা প্রদান করেন।
More News Of This Category

