ইয়েমেনের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ তাইজে গত কাল সোমবার ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১৬৪টি হামলা চালিয়ে ইরানের মদতপুষ্ট হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কয়েকটি ঘাঁটি দখল করেছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী। এসব হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৫৫৮ জন হুথি যোদ্ধা।
এছাড়া সোমবারের এসব অভিযানে হুথি গোষ্ঠীর ১৩৫টি সামরিক যানবাহনও ধ্বংস হয়েছে। ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আল নুজাইলি আজ মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় এসব তথ্য জানিয়েছেন।
এক্সবার্তায় আল-নুজাইলি বলেন, “যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ফিল্ড আর্টিলারি, রকেট লঞ্চার এবং স্নাইপার ইউনিট ব্যবহারের মাধ্যমে পরিচালিত এসব হামলায় হুথিদের আক্রমণ চালানোর অবস্থান ও রসদ সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করেছে।”
“এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলীয় যুদ্ধক্ষেত্র এবং শাবওয়া প্রদেশে সরকারি বাহিনী হুথিদের অবস্থানের বিরুদ্ধে আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। এর ফলে হুথিদের চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে এবং তারা পুনরায় সংগঠিত হওয়া বা নতুন করে শক্তি মোতায়েন করার সুযোগ পাচ্ছে না।”
মুখপাত্র আরও জানান, পশ্চিম উপকূল এবং কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালীর কাছে সরকারি বাহিনী হুথিদের অগ্রযাত্রা প্রতিহত করেছে। পাশাপাশি তারা হুথিদের জমায়েতস্থল ও আক্রমণ চালানোর অবস্থানগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
“সাম্প্রতিক এই অভিযানে হুথি বাহিনীর মাঠপর্যায়ের কমান্ডারসহ মোট ৫৫৮ জন হুথি যোদ্ধা নিষ্ক্রিয় হয়েছে। সেই সঙ্গে সরকারি বাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকার পরিধি আরও বাড়াচ্ছে।”
ইরানের মদতপুষ্ট ইয়েমেনি গোষ্ঠীকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করতে গত ৫ অক্টোবর ‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’ শুরু করেছে ইয়েমেনের সেনাবাবাহিনী। এ অভিযান শুরুর পর থেকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এবং ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়াদের মধ্যে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে।
সৌদি আরব এ অভিযানে বিমান সহায়তা দিচ্ছে। ‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’ অভিযানের লক্ষ্য হলো হুথিদের দখলে থাকা এলাকাগুলো পুনরুদ্ধার করা এবং রাজধানী সানাসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা।
সংঘাত বৃদ্ধির এই পর্যায়ে হুথিরা সৌদি আরব এবং ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর অবস্থানের ওপর নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাও চালিয়েছে। আল-নুজাইলি জানান, সোমবার হুথিরা শাবওয়ায় একটি সেনা প্রশিক্ষণ শিবিরকে লক্ষ্য করে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এতে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫৮ জন।
সূত্র : আরব নিউজ
এসএমডব্লিউ
