ড. খলিলুর রহমান
বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন–আমরা কি অতীতের সংঘাত, প্রতিশোধ ও বিভাজনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আবদ্ধ থাকব, নাকি জাতীয় পুনর্মিলন, পারস্পরিক সহনশীলতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির মাধ্যমে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করব। রাষ্ট্রের দায়িত্ব কোনো রাজনৈতিক দলকে নিশ্চিহ্ন করা নয়; বরং আইনের শাসনের ভিত্তিতে সব নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। দেশে এখন প্রয়োজন প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে পুনর্মিলনের রাজনীতিতে উত্তরণ।...

প্রতিহিংসা, বিভাজন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্মূল করার প্রচেষ্টা দুঃখজনকভাবে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে। আমরা ভুলে যাই যে, একপক্ষীয় ক্ষমতাচর্চার মাধ্যমে কখনো দীর্ঘস্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা কিংবা গণতান্ত্রিক অগ্রগতি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বরং এসব কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে, সমাজে অবিশ্বাস ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করে এবং জাতীয় উন্নয়নের সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করে। আমরা যত দ্রুত এই সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে পারব, দেশ ও জাতির জন্য তা ততই মঙ্গলজনক।
তাই আজ বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন–আমরা কি অতীতের সংঘাত, প্রতিশোধ ও বিভাজনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আবদ্ধ থাকব, নাকি জাতীয় পুনর্মিলন (Reconciliation), পারস্পরিক সহনশীলতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির মাধ্যমে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করব। দেশের নিরপেক্ষ বিশ্লেষকদের মতে, দেশ ও জনগণের সার্বিক স্বার্থরক্ষা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জাতীয় পুনর্মিলন ও ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।
আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সরকারের সাফল্য দেখতে চাই। একই সঙ্গে প্রত্যাশা করি, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এমন একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ করবে, যেখানে প্রতিহিংসার পরিবর্তে সংলাপ, বর্জনের পরিবর্তে অন্তর্ভুক্তি এবং রাজনৈতিক বৈরিতার পরিবর্তে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হবে।
দুঃখজনকভাবে, অনির্বাচিত ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এই প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হয়নি। প্রথম দিকে তিনি এবং তার মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর কথা বলায় অভ্যস্ত আইন উপদেষ্টার কিছু অসংলগ্ন বক্তব্যে জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও পরবর্তী সময়ে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ সেই প্রত্যাশার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে। বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যাপক মিথ্যা মামলা, গ্রেপ্তার, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রতিবন্ধকতা এবং বিরোধী মতের প্রতি চরম অসহিষ্ণুতা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার পথে গুরুতর অন্তরীয় সৃষ্টি করেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপের পর্যালোচনা এবং নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এখন জরুরি।
আমাদের মনে রাখতে হবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব কোনো রাজনৈতিক দলকে নিশ্চিহ্ন করা নয়; বরং আইনের শাসনের ভিত্তিতে সব নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
প্রধানমন্ত্রীর ‘3R’ এবং অনুপস্থিত চতুর্থ ‘R’: গত মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য তুলে ধরেন–Recovery, Restoration and Reconstruction; অর্থাৎ পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠন। এই তিনটি লক্ষ্য নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রশাসনিক ও সামাজিক কাঠামোর পুনর্গঠন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর একটি সাক্ষাৎকারে আমি মন্তব্য করেছিলাম, এই ‘3R’-এর সঙ্গে আরও একটি ‘R’ যুক্ত করা প্রয়োজন ছিল–Reconciliation, অর্থাৎ জাতীয় পুনর্মিলন। কারণ রাজনৈতিক পুনর্মিলন ছাড়া রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার টেকসই হতে পারে না; জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন কঠিন হয়ে পড়ে; আর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা অব্যাহত রেখে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও স্থিতিশীল করা অসম্ভব। অতীত আমাদের সেই শিক্ষাই দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী যদি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদেই এই চতুর্থ ‘R’-এর ঘোষণা দিতেন, তাহলে তা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একটি শক্তিশালী ও ইতিবাচক বার্তা দিতে পারত। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বও বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হতো। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নের জন্য কেবল অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট নয়। রাজনৈতিক সহনশীলতা, মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতি সুস্পষ্ট অঙ্গীকারও অতি গুরুত্বপূর্ণ। তবে দেরিতে হলেও বর্তমানের নির্বাচিত সরকার যদি জাতীয় পুনর্মিলনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে থাকে, তাহলে সেই উদ্যোগকে সব দলের স্বাগত জানানো উচিত।
একটি সরকারের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং তার উপদেষ্টাদের পরামর্শের মানের ওপর। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বর্তমান সরকারের বেশ কিছু উপদেষ্টার রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্য দেখে মনে হয়, তারা জাতীয় ঐক্যের পরিবর্তে বিভাজনের রাজনীতিকেই অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে আসছিলেন।
বিশেষত, ভারত এবং সাবেক শাসক দলের প্রতি তাদের কঠোর বিরোধিতামূলক মনোভাব অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবভিত্তিক রাষ্ট্রীয় স্বার্থের পরিবর্তে বিভাজন, ঘৃণা ও আবেগনির্ভর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে উৎসাহিত করে আসছেন।
অন্যদিকে, সরকারপ্রধানকে অনুধাবন করতে হবে–তিনি সবার প্রধানমন্ত্রী, তিনি কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেতা নন; তিনি সমগ্র বাংলাদেশের সরকারপ্রধান। তার দায়িত্ব দলীয় সমর্থকদের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষসহ সব নাগরিকের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা। যেসব উপদেষ্টা রাজনৈতিক সমঝোতা, সহনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের পরিবর্তে বিভাজনকে উৎসাহিত করেন, তাদের ভূমিকা ও পরামর্শের কার্যকারিতা প্রধানমন্ত্রীর পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে অধিকতর বিচক্ষণ, উদার ও জাতীয় স্বার্থসচেতন ব্যক্তিদের পরামর্শ গ্রহণ করলে প্রধানমন্ত্রী হিসেব উনি প্রশংসিত হবেন এবং একজন দেশনেতা হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে সক্ষম হবেন।
জাতীয় পুনর্মিলন কেবল রাজনৈতিক বক্তৃতা বা শুভেচ্ছা বিনিময়ের বিষয় নয়। এটি একটি সুপরিকল্পিত, প্রাতিষ্ঠানিক ও দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। আর এই উদ্যোগের নেতৃত্ব সরকারকেই নিতে হবে। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সব রাজনৈতিক দলকে, তাদের মতাদর্শগত অবস্থান নির্বিশেষে, একটি জাতীয় সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো প্রয়োজন। সেখানে রাজনৈতিক অধিকার, আইনের শাসন, মানবাধিকার, পারস্পরিক সহাবস্থান এবং ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মৌলিক নীতিগুলো নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এই সংলাপের ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় পুনর্মিলন কমিশন গঠন করা যেতে পারে। কমিশনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ছাড়াও সংবিধান বিশেষজ্ঞ, বিচারপতি, শিক্ষাবিদ, মানবাধিকারকর্মী, নাগরিক সমাজ এবং অন্যান্য গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। কমিশনের কাজ হবে রাজনৈতিক সংঘাতের কারণ চিহ্নিত করা, অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও পর্যালোচনার ব্যবস্থা সুপারিশ করা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক ও মিথ্যা মামলা ও হয়রানির প্রতিকার খোঁজা, রাজবন্দিদের জামিনের ব্যবস্থা করা এবং ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সহাবস্থানের একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো তৈরি করা। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে–পুনর্মিলন মানে অপরাধের দায়মুক্তি নয়; বরং সত্য উদ্ঘাটন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহি এবং পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ নির্মাণ।
বিরাজনীতিকরণ হবে বিএনপির জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিপদ। এ বছরের মাঝামাঝি প্রকাশিত একটি নিবন্ধে আমি সতর্ক করেছিলাম, রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ, দুর্বল কিংবা রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রবণতা ভবিষ্যতে বিএনপির জন্যও বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার প্রবণতা নতুন কিছু নয়। কিন্তু আমরা দেখেছি এই প্রবণতা কোনো দলের জন্যই স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি। আজ যে রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতায় রয়েছে, ভবিষ্যতে তার অবস্থান পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অধিকার সংকুচিত করার যে নজির আজ প্রতিষ্ঠিত হবে, আগামী দিনে সেই একই নজির ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধেও ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।
সুতরাং, রাজনৈতিক বহুত্ববাদ রক্ষা করা কোনো একটি দলের প্রতি অনুগ্রহ নয়; এটি প্রতিটি রাজনৈতিক দলের দীর্ঘমেয়াদি অস্তিত্ব, গ্রহণযোগ্যতা ও নিরাপত্তার পূর্বশর্ত। প্রধানমন্ত্রী আরও মনে করতে পারেন–তার বাবা প্রখ্যাত বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ’৭৫-এর আগস্টে বঙ্গবন্ধু শহিদ হওয়ার পর স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীসহ সব দলকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এবং একটি উদার মধ্য-ডানপন্থি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির সামনে আজ একটি ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে। বিএনপি চাইলে এমন একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দিতে পারে, যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, তীব্র সমালোচনাও থাকবে, কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্মূল করার প্রচেষ্টা থাকবে না। এ ধরনের অবস্থান বিএনপির গণতান্ত্রিক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করবে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করবে এবং দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি শক্তিশালী করবে।
বাংলাদেশ আজ এমন একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিচক্ষণতা ও উদারতা আগামী কয়েক দশকের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে সুযোগ রয়েছে প্রতিশোধ ও বিভাজনের দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায় অতিক্রম করে জাতীয় পুনর্মিলন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করার। এ জন্য প্রয়োজন সাহসী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, উপযুক্ত পরামর্শ, সব পক্ষের সঙ্গে আন্তরিক সংলাপ এবং জনগণের মৌলিক রাজনৈতিক অধিকারের প্রতি নিঃশর্ত শ্রদ্ধা। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত Recovery, Restoration and Reconstruction-এর সঙ্গে Reconciliation যুক্ত হলে এই চারটি ‘R’ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার একটি সমন্বিত রূপরেখায় পরিণত হতে পারে।
আমাদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রী দ্রুত একটি জাতীয় সংলাপের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এবং সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে জাতীয় পুনর্মিলন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করবেন। কারণ ইতিহাস শেষ পর্যন্ত কোনো সরকারের প্রতিপক্ষকে কতটা দুর্বল করা হয়েছে, তার ভিত্তিতে সাফল্য বিচার করে না; বরং একটি সরকার কতটা শান্তি, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে, তার ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করে।
বাংলাদেশের এখন প্রয়োজন প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে পুনর্মিলনের রাজনীতিতে উত্তরণ। প্রয়োজন বিভাজন নয়, ঐক্য; বর্জন নয়, অন্তর্ভুক্তি; প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার। জাতীয় পুনর্মিলন কোনো রাজনৈতিক দুর্বলতার পরিচয় নয়–এটি দূরদর্শী, আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রনায়কত্বের সর্বোচ্চ প্রকাশ।
লেখক: সাবেক রাষ্ট্রদূত ও
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব
