খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) এলাকাসহ সারাদেশে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমের মাধ্যমে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সারাদেশের আনুমানিক ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে অনলাইন ডেটাবেইজে যুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে কেসিসির শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহবিষয়ক অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এতে খুলনা প্রান্ত থেকে অনলাইনে যুক্ত হন অতিথি ও অংশগ্রহণকারীরা। ঢাকায় তথ্য অধিদফতরের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন ও প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। তারা ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
খুলনা প্রান্তের অনুষ্ঠানে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে বৈষম্যের কোনো সুযোগ নেই। তথ্য সংগ্রহকারীরা ট্যাবের মাধ্যমে তথ্য ইনপুট দিলে তা কেন্দ্রীয় ডেটাবেইজে যুক্ত হবে।
কেসিসির ২, ৩, ১২ (আংশিক), ১৬, ১৭ (আংশিক), ২৯ ও ৩০ (আংশিক) নম্বর ওয়ার্ডে তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। এসব ওয়ার্ডের জন্য ৬০টি ট্যাব পাওয়া গেছে। পরবর্তী সময়ে ট্যাব পাওয়া সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে অন্য ওয়ার্ডের তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রশিক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হবে। এর মধ্যে ২, ৩ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড খুলনা-৩ আসনের এবং ১৬, ১৭, ২৯ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ড খুলনা-২ আসনের অন্তর্ভুক্ত।
খুলনা-৩ আসনের আওতাধীন শহর সমাজসেবা কার্যালয়-৩-এর অধীনে ১ থেকে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে রিজার্ভসহ ১১৭ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ১২ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত রয়েছেন। খুলনা-২ আসনের আওতাধীন শহর সমাজসেবা কার্যালয়-১-এর অধীনে ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২৫ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৮৪ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৯ জন সুপারভাইজার এবং শহর সমাজসেবা কার্যালয়-২-এর অধীনে ২১, ২২, ২৩, ২৪, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ১০৪ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ১০ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত করা হয়েছে।
প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, সারাদেশে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্যভান্ডার-এর তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ কাজে ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত রয়েছেন। তারা মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিশেষায়িত ট্যাবলেটের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং তা সরাসরি অনলাইন ডেটাবেইজে যুক্ত করবেন।
ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে সারাদেশের আনুমানিক ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ ও ডেটাবেইজে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতি পাঁচজন সদস্যকে একটি পরিবার হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পরে প্রক্সি মিন টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতিতে ডেটাবেইজ থেকে যোগ্য উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে।
চলতি অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হালনাগাদ প্রক্সি মিন টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতিতে দেশের পরিবারগুলোকে আর্থসামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে পাঁচটি কোয়ান্টাইলে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত। নীতিমালা অনুযায়ী, নারী পরিবারপ্রধানরা ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। তবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় কোয়ান্টাইলভুক্ত অর্থাৎ নিম্ন স্কোর পাওয়া পরিবারের নারী পরিবারপ্রধানরা ভাতা পাবেন।
কেসিসি ও শহর সমাজসেবা কার্যালয় (১, ২ ও ৩) আয়োজিত এ প্রেস কনফারেন্সে কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, সচিব মো. রেজা রশিদ, বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক অনিন্দিতা রায়, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
খুলনা গেজেট/উউরা
