The Sangbad · বিনোদন
চীনের ভয়ে সালমানের সিনেমার গল্প পরিবর্তনের তীব্র অভিযোগ
১৮/১০/২০২৬

বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘মাতৃভূমি: মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’ ঘিরে বিতর্ক দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ২০২০ সালের ভারত-চীন সীমান্ত সংঘাতের ঘটনা নিয়ে তৈরি এই ছবিটির নাম পরিবর্তন থেকে শুরু করে মুক্তি পর্যন্ত সবকিছু নিয়েই চলছে জোর আলোচনা।এর মধ্যেই জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী সরকারের বিরুদ্ধে এক বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন। তাঁর দাবি, চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতির আশঙ্কায় এই ছবির মূল গল্প ও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার জন্য নির্মাতাদের বাধ্য করা হয়েছে।ধ্রুবের অভিযোগ অনুযায়ী, ছবিতে চীনের সমালোচনা রয়েছে এমন দৃশ্য নিয়ে আগেই তীব্র আপত্তি উঠেছিল। যার ফলে পুরো সিনেমাটিই আবার নতুন করে চিত্রায়ণের নির্দেশ দেওয়া হয়। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক বৈঠকে স্পষ্ট ভাষায় ধ্রুব বলেন, ‘সরকারের সাহস নেই ছবিটি যে ভাবে তৈরি হয়েছিল, সেই ভাবে মুক্তি দেওয়ার। পুরো ছবিটাই নতুন করে শুটিং করানো হয়েছে। নির্মাতাদের বলা হয়েছিল, চীনকে ইতিবাচক ভাবে দেখাতে হবে।’এখানেই তিনি থেমে থাকেননি; সরকারের নীতিকে আক্রমণ করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘ওরা চীন, আমেরিকা আর ইলন মাস্ককে ভয় পায়। ওরা কাপুরুষ।’ একই সঙ্গে তিনি জানান যে, তিনি নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে কথা বলছেন না, বরং সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে সমালোচনা করে আসছেন।জার্মান প্রবাসী ধ্রুব রাঠীকে দিল্লিতে এক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগে গুরুগ্রামের বাসা থেকে আটক করা হয়েছিল বলে খবরে জানা যায়। তবে সব বিতর্ক ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে চলচ্চিত্রটির মুক্তিতে কিছুটা অগ্রগতি দেখা দিয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র পেয়েছে সংশোধিত চলচ্চিত্রটি।শোনা যাচ্ছে, পরিবর্তিত সংস্করণে ভারত-চীন সম্পর্ককে কিছুটা নমনীয়ভাবে উপস্থাপন করায় ছাড়পত্র দিতে সম্মত হয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৩ নভেম্বর ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।উল্লেখ্য, শুরুর দিকে সিনেমাটির নামকরণ করা হয়েছিল ‘ব্যাটল অফ গলওয়ান’, যা নিয়ে চীনের সরকারি গণমাধ্যমও কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিল। পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘মাতৃভূমি: মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’। ছবির পরিচালক অপূর্ব লাখিয়া অবশ্য জানান, দুটি নামই প্রথম থেকে নিবন্ধিত ছিল এবং সিনেমাটি শুধু রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের গল্প নয়, বরং এর সঙ্গে সেনাসদস্যদের নীরব আত্মত্যাগ ও মানবিকতার কাহিনি জড়িত।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗