ছবির ক্যাপশন: .
ক্রীড়া ডেস্ক:
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে দ্রুত গোল করে এগিয়ে গিয়েও জয় তুলে নিতে পারেনি পর্তুগাল। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে জোয়াও নেভেসের গোলে লিড নেওয়ার পর আর কোনো গোল করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে ইউরোপিয়ান দলটিকে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে পর্তুগাল। এরই ধারাবাহিকতায় ষষ্ঠ মিনিটে জোয়াও নেভেসের গোলে এগিয়ে যায় তারা। দ্রুত গোল পাওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখলেও আক্রমণে সেই ধার আর ধরে রাখতে পারেনি দলটি।
প্রথমার্ধের বাকি সময়ে বেশ কয়েকটি আক্রমণ গড়ে তুললেও সেগুলো থেকে গোল আদায় করতে ব্যর্থ হয় পর্তুগাল। বরং বিরতির আগে পাল্টা আক্রমণে সমতায় ফেরে ডিআর কঙ্গো। বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গোলটি করে ম্যাচে ১-১ সমতা আনে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
দ্বিতীয়ার্ধে জয়সূচক গোলের খোঁজে মরিয়া হয়ে ওঠে পর্তুগাল। তবে আক্রমণভাগের নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সে হতাশ হতে হয় তাদের। পুরো ম্যাচে নেভেসের গোলের পর আর কোনো শট অন টার্গেট রাখতে পারেনি দলটি। অন্যদিকে ডিআর কঙ্গোও কয়েকটি বিপজ্জনক আক্রমণ চালিয়ে পর্তুগালকে চাপে রাখে।
ম্যাচজুড়ে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সী এই তারকা ফরোয়ার্ড ৯০ মিনিটে তিনটি শট নিলেও কোনোটি লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের কাছ থেকে বড় কিছু আশা করা হলেও তিনি ছিলেন অনেকটাই নিস্তেজ।
খেলা শেষে হতাশা লুকাননি রোনালদো। হিউস্টনের স্টেডিয়ামের মিক্সড জোনে তিনি বলেন, “আমরা যে যথেষ্ট করিনি, তা নয়। এটাই ফুটবল। পর্তুগালের সুযোগ ছিল ম্যাচটি জেতার, কিন্তু হেরেও যেতে পারতাম।”
প্রতিপক্ষের পাল্টা আক্রমণ নিয়ে সতর্ক মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, “ডিআর কঙ্গো কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল। আমাদের আরও মনোযোগী হতে হবে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমর্থকদের উদ্দেশে বার্তা দেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। তিনি লেখেন, “আমরা এমন শুরু চাইনি, কিন্তু এটাই শেষ নয়। আমাদের মনোবল ধরে রাখতে হবে এবং পরের ম্যাচে মনোযোগ দিতে হবে।”
এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ পর্বে পর্তুগালের সামনে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এক পয়েন্ট অর্জন করে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে ডিআর কঙ্গো।
