মাদকসহ ৪ মামলার আসামি থেকে রাতারাতি সাংবাদিক, কখনো সিনিয়র সাংবাদিক কখনো সম্পাদক
অনলাইন ডেক্স
- আপডেট সময় : ০৪:৫৯:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১২০ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক ভোরের কন্ঠ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
মাদক মামলাসহ একাধিক অপরাধের আইনি ঝামেলা ও পুলিশের হাত থেকে রক্ষা পেতে কৌশল হিসেবে সাংবাদিকতার ভুয়া পরিচয় ব্যবহারের চাঞ্চল্যকর খবর পাওয়া গেছে। মো. আলাউদ্দিন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
গলায় পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) ঝুলিয়ে ও হাতে মোবাইল ক্যামেরা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান এই কথিত সাংবাদিক আলাউদ্দিন। কখনো নিজেকে ‘সিনিয়র সাংবাদিক’, আবার কখনো নিজেকে কোনো অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টালের ‘সম্পাদক’ পরিচয়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করে আসছেন।
পুলিশের অনুসন্ধানে ও নথি সূত্রে জানা গেছে, কথিত সাংবাদিক মো. আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ ও মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী:
২০১৮ সাল: মারপিট ও সহিংসতার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের হয়।
২০২৩ সাল: তার বিরুদ্ধে একটি মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত মামলা এবং একই বছরে যৌতুক নিরোধ আইনে আরেকটি পৃথক মামলা হয়।
২০২৬ সাল: সর্বশেষ তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একাধিক মামলায় আসামি হওয়ার পরই গ্রেপ্তার এড়াতে ও পুলিশি নজরদারি এড়াতে হঠাৎ করেই সাংবাদিক সেজে মাঠে নামেন আলাউদ্দিন।
এ বিষয়ে কুমিল্লার স্থানীয় কর্মরত সাংবাদিকরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সাংবাদিকতার পরিচয় কোনো অপরাধ ঢাকাল বা আইনি সাজা থেকে রেহাই পাওয়ার লাইসেন্স হতে পারে না। কেউ যদি ভুয়া পরিচয়পত্র বানিয়ে আইনকে প্রভাবিত করা কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।”
একই সাথে ভুয়া ও অনিবন্ধিত গণমাধ্যমের নাম ভাঙিয়ে যারা সাংবাদিকতার সার্বিক ভাবমূর্তি ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, “মো. আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মারপিট, মাদক, যৌতুক ও চাঁদাবাজির অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলা বর্তমানে আইন অনুযায়ী তদন্তাধীন ও বিচারাধীন রয়েছে। ভুয়া পরিচয় দিয়ে কোনো অপরাধীর ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই; তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
