
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আখাইলকুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফখরুজ্জামানের নেতৃত্বে তোফায়েল মিয়া নামের এক কৃষকদল নেতাকে বাড়িতে ধরে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার ইউনিয়নের পালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
ভুক্তভোগী তোফায়েল মিয়া সদর উপজেলা কৃষকদলের সদস্য এবং সুমারাই গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগ, শুক্রবার দুপুরে জেলা শহর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাড়ি ফেরার পথে ফখরুজ্জামানের বাড়ির সামনে তাঁর পথরোধ করা হয়। এ সময় ফখরুজ্জামান, তাঁর ভাই সদর উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক শফিউল আলম জগলু ও তাঁদের এক ভাতিজাসহ ১০-১২ জন তাঁকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করেন। পরে তাঁকে ফখরুজ্জামানের বাড়িতে নিয়ে একটি বন্ধ ঘরে পাইপ ও রড দিয়ে আবারও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তোফায়েল মিয়া বলেন, তাঁর বাবার সঙ্গে জমির মালিকানা নিয়ে ফখরুজ্জামানদের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের জেরেই তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। তাঁকে বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা ফখরুজ্জামান বলেন, গত বছর বিল নিয়ে একটি বিরোধ হয়েছিল। বিষয়টি জেলা নেতারা জানতেন এবং এ নিয়ে সালিশও হয়েছিল। শুক্রবার কয়েকজন তাঁকে বাড়িতে নিয়ে এসেছিল। তিনি তখন নামাজে যাচ্ছিলেন বলে জানান। পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ডেকে তোফায়েলকে নিয়ে যেতে বলেন বলে দাবি করেন তিনি।
সদর উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক শফিউল আলম জগলু বলেন, এলাকার কয়েকজন তাঁকে ধরে বাড়িতে নিয়ে এসেছিল। তবে কারা তাঁকে নিয়ে এসেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক ইউসুফ জানান, তিনি ঘটনাস্থল থেকে তোফায়েলকে উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় দেন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
