বিশ্ববাজারে সরবরাহের উদ্দেশ্যে রাশিয়ার প্রথম তেলবাহী ট্যাংকার বন্দর ছেড়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। তাঁর মতে, বিশ্ববাজারে প্রতিদিন ৪০ লাখ থেকে ৬০ লাখ ব্যারেল তেলের ঘাটতি থাকায় জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি এখনো চাপের মুখে রয়েছে।
শনিবার রাজনৈতিক টক শো ‘সলোভিওভ লাইভ’-এ দেওয়া বক্তব্যে আলেকজান্ডার নোভাক বলেন, রাশিয়ার তেল বিক্রিতে কোনো সংকট নেই। বরং রুশ তেল কিনতে আগ্রহী ক্রেতার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।
নোভাক জানান, রাশিয়ার প্রথম তেলবাহী ট্যাংকারে ইতোমধ্যে তেল বোঝাই করা হয়েছে এবং সেটি ডিকসন বন্দর ছেড়ে গেছে। আর্কটিক অঞ্চলে কারা সাগরের উপকূলে অবস্থিত এই বন্দর রাশিয়ার জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে গত ৯ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের পর ডিজেল সরবরাহ নিয়ে একটি চুক্তির কথা জানান। ওই উদ্যোগের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে সম্মত হয়েছে মস্কো বলে জানানো হয়।
পুতিনের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহ বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, রুশ ডিজেল রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ শিথিল হলে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাশিয়ার অর্থায়নের সুযোগ বাড়তে পারে।
বিশ্ববাজারের জ্বালানি পরিস্থিতি তুলে ধরে নোভাক বলেন, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ থেকে ৬০ লাখ ব্যারেল তেলের ঘাটতি রয়েছে। সরবরাহের এই ঘাটতি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ।
তিনি সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলে আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে বিশ্ববাজারে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
তবে বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন দেশের সংরক্ষিত তেলের মজুত ব্যবহারের সুযোগ ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে বলেও মন্তব্য করেন রাশিয়ার এই উপপ্রধানমন্ত্রী।
তেল রপ্তানির পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে রাশিয়ার। নোভাক জানান, ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া’ পাইপলাইনের মাধ্যমে চীনে বছরে ৩ হাজার ৯০০ কোটি ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রত্যাশা করছে মস্কো। ভবিষ্যতে সরবরাহ সক্ষমতা বাড়িয়ে বছরে ৪ হাজার ৪০০ কোটি ঘনমিটারে উন্নীত করার বিষয়েও চুক্তি রয়েছে।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে চীনের সঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইউরোপে নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালুর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এখনো রয়েছে বলে দাবি করেছেন নোভাক। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইনগুলোর অবস্থা এবং ইউরোপীয় ক্রেতাদের সিদ্ধান্তের ওপর সরবরাহ পুনরায় শুরু করার বিষয়টি নির্ভর করছে।
তিনি জানান, বিস্ফোরণ ও কথিত নাশকতার ঘটনায় নর্ড স্ট্রিমের চারটি পাইপলাইনের মধ্যে তিনটি অচল হয়ে রয়েছে। অন্য একটি পাইপলাইন অক্ষত থাকায় সেটির মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব বলে দাবি করেন তিনি।
সূত্র: আনাদোলু
আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
