অ্যাপলের পরবর্তী প্রজন্মের পাতলা স্মার্টফোন আইফোন এয়ার ২ নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। দুটি ক্যামেরা, আরও শক্তিশালী প্রসেসর, উন্নত ব্যাটারি ও নতুন কুলিং প্রযুক্তির মতো পরিবর্তন থাকতে পারে ফোনটিতে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৭ সালের বসন্তে বাজারে আসতে পারে আইফোন এয়ার ২।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ৯টু৫ম্যাকের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। তবে অ্যাপল এখনো ফোনটির বৈশিষ্ট্য বা বাজারে আসার সময় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
প্রথম প্রজন্মের আইফোন এয়ার প্রত্যাশার তুলনায় কম বিক্রি হওয়ায় এর পরবর্তী সংস্করণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য ইনফরমেশন জানিয়েছিল, বিক্রি কম হওয়ায় অ্যাপল দ্বিতীয় প্রজন্মের ফোনটির উৎপাদন পরিকল্পনা অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দিয়েছিল।
পরে অবশ্য সংবাদমাধ্যমটি জানায়, আইফোন এয়ার ২ পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি। বরং ফোনটি নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে অ্যাপল।
দুটি ক্যামেরা: প্রথম প্রজন্মের আইফোন এয়ারের অন্যতম সীমাবদ্ধতা হলো এর পেছনে মাত্র একটি ক্যামেরা রয়েছে। নতুন সংস্করণে এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে আরেকটি ক্যামেরা যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে অ্যাপল।
ব্লুমবার্গ ও দ্য ইনফরমেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইফোন এয়ার ২-এর পেছনে দুটি ক্যামেরা থাকতে পারে। দ্বিতীয় ক্যামেরাটি টেলিফটো নয়, বরং আলট্রা-ওয়াইড হতে পারে। এর ফলে বিস্তৃত দৃশ্যের ছবি তোলার সুবিধা বাড়বে।
আরও শক্তিশালী চিপ: আইফোন এয়ার ২-তে এ১৯ প্রো চিপের পরিবর্তে এ২০ প্রো প্রসেসর ব্যবহারের গুঞ্জন রয়েছে। এটি অ্যাপলের প্রথম দুই ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি আইফোন প্রসেসর হতে পারে।
নতুন প্রযুক্তির ফলে একই আকারের চিপ থেকে বেশি কর্মক্ষমতা পাওয়া এবং বিদ্যুৎ খরচ কমানো সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ওয়েফার-লেভেল মাল্টি-চিপ মডিউল প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এ প্রযুক্তিতে প্রসেসরের প্রধান অংশ ও ডিআরএএমকে আরও সমন্বিতভাবে যুক্ত করা হয়, যা কর্মক্ষমতা বাড়াতে এবং বিদ্যুৎ খরচ কমাতে সহায়তা করতে পারে।
বাড়বে ব্যাটারির সক্ষমতা: আইফোন এয়ার ২-এর ব্যাটারিতেও উন্নতি আনার কাজ করছে অ্যাপল। সরবরাহব্যবস্থাসংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ফোনে ৩ হাজার ৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার-আওয়ারের ব্যাটারি থাকতে পারে।
সেই তুলনায়, প্রথম প্রজন্মের আইফোন এয়ারে রয়েছে ৩ হাজার ১৪৯ মিলিঅ্যাম্পিয়ার-আওয়ারের ব্যাটারি। অর্থাৎ নতুন সংস্করণে ব্যাটারির সক্ষমতা ১০ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে।
এ ছাড়া এ২০ প্রো চিপের উন্নত বিদ্যুৎ-দক্ষতার কারণে ব্যাটারির চার্জ আরও বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে।
থাকছে ভ্যাপার চেম্বার কুলিং প্রযুক্তি আইফোন এয়ার ২-তে ভ্যাপার চেম্বার কুলিং প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। অ্যাপল প্রথম আইফোন ১৭ প্রো মডেলে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে।
এ প্রযুক্তি ফোনের ভেতরের তাপ দ্রুত ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে। ফলে ভারী কাজ, গেম খেলা বা দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ কর্মক্ষমতা প্রয়োজন হয় এমন পরিস্থিতিতে ফোন অতিরিক্ত গরম হওয়ার ঝুঁকি কমতে পারে।
বাজারে আসবে কবে: প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের সঙ্গে আইফোন এয়ার ২ উন্মোচন করবে অ্যাপল। তবে ব্লুমবার্গের সর্বশেষ প্রতিবেদনের বরাতে ৯টু৫ম্যাক জানিয়েছে, ফোনটি ২০২৭ সালের বসন্তে বাজারে আসতে পারে। সে সময় নতুন সাধারণ সংস্করণের আইফোন ১৮-ও উন্মোচন করা হতে পারে।
কে
