পুলিশের কাছ থেকে মুক্তি পাওয়ার পর থানা থেকে বের হচ্ছেন জুবায়ের আহমদ। ছবি: খবরের কাগজ
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে ফেসবুকে পাথরমহাল খোলার দাবিতে পোস্ট দেওয়ার দুদিন পর পাথরব্যবসায়ী ও শিক্ষক জুবায়ের আহমদকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি আলী আকবর ও সিনিয়র সহসভাপতি শওকত আলী বাবুল।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ১১টা ৪০ মিনিটে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি শওকত আলী বাবুল ও বিএনপি নেতা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান লাল মিয়ারা জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেয় কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ উসমান গনি ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে খবরের কাগজকে বলেন, ‘জুবায়ের আহমদের দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। সব যাচাই-বাছাই করে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি শওকত আলী বাবুল ও ভাইস চেয়ারম্যান লাল মিয়ার জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
আরও পড়ুন
যিনি থানায় নিয়ে এসেছিলেন তার জিম্মায়ই কি জুবায়েরকে ছাড়া হলো? এই প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ‘জি, তিনি নিয়ে এসেছিলেন তার জিম্মায়ই ছাড়া হয়েছে।’
যাচাই-বাছাই করে কি তার কোনো অপরাধ পাওয়া গেছে? এই প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ‘যাচাই-বাছাই করেই তাদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’
আরও পড়ুন
এর আগে, গত শনিবার সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কলাবাড়ি গ্রামের জুবায়ের আহমদ পাথর ব্যবসায়ী ও শিক্ষক ফেসবুকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর ছবি দিয়ে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘১২ তারিখ নির্বাচনের পর ১৩ তারিখ সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। অথচ কিছুই ঠিক হলো না। মন্ত্রী মহোদর আমাদের জীবন কঠিন থেকে কঠিনতম করে দিলেন।’
এই পোস্ট দেওয়ার দুদিন পর তাকে পুলিশে দেন উপজেলা বিএনপির দুই নেতা।
ফেসবুকের এই পোস্টের জন্য গতকাল দুপুরে উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি আলী আকবর ও সিনিয়র সহসভাপতি শওকত আলী বাবুল তাকে থানায় ডেকে এনে পুলিশের কাছে তুলে দেন। এরপর পুলিশ তাকে আটক করে। তবে তখন কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ উসমান গনি ঘটনাটিকে ‘থানায় আত্মসমর্পণ’ দাবি করেন।
আটকের পর জুবায়েরের ফেসবুক পোস্টটিও আর পাওয়া যায়নি। তাকে ধরিয়ে দেওয়া বিএনপির দুই নেতা ‘বিষয়টি পুলিশ দেখছে’ জানিয়ে এ নিয়ে কথা বলতেও রাজি হননি।
গতকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে ওসি মোহাম্মদ উসমান গনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘জুবায়ের আহমদ নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। কী কারণে আটক করা হয়েছে, সেটা এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’
তাহলে কি আটক করার পর আপনারা সিদ্ধান্ত নেন কী কারণে আটক হবে?- এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ‘ফেসবুক স্ট্যাটাসের কারণে আটক করা হয়েছে। উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি আলী আকবর তাকে আত্মসমর্পণ করাতে নিয়ে এসেছিলেন।’
ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার জন্য ‘আত্মসমর্পণ’ কেন করবে? এমন প্রশ্নে ওসিও পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘সেটাই তো! আত্মসমর্পণ কেন করবে? আমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে এসেছি। এখনো গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।’
‘১২ তারিখ নির্বাচনের পর ১৩ তারিখ সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার কথা ছিল।’ এ কথার জন্য কেন পুলিশকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে, এটা কি কোনো অপরাধের ভেতরে পড়ে? এমন প্রশ্নে ওসি বলেন, ‘আইন মোতাবেক আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারি। অপরাধ আছে। এখন এই অপরাধটা সে করেছে কি না, তার মোবাইল কেউ ব্যবহার করছে কি না সেটা যাচাই করছি।’
শাকিলা ববি/অন্তরা/
