মিল্টন সেন, হুগলি: পরকীয়ার সন্দেহে আবারও নৃশংস হত্যাকাণ্ড হুগলিতে। চুঁচুড়ার সানন্দা বারিক হত্যাকাণ্ডে ওড়িশার পুরী থেকে গ্রেপ্তার হলেন স্বামী। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চুঁচুড়ার প্রতাপপুরের বাসিন্দা সানন্দা বারিকের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় স্বামী মদনমোহন বারিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে গোপন আস্তানা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, সাংসারিক অশান্তি ও পরকীয়ার সন্দেহকে কেন্দ্র করেই স্ত্রীকে খুন করে আত্মগোপন করেছিলেন অভিযুক্ত। শনিবার ধৃতকে চুঁচুড়া আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হবে বলে জানা গিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে চুঁচুড়ার প্রতাপপুরে একটি বন্ধ ঘর থেকে সানন্দার রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।
সানন্দার মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর স্বামী মদনমোহনের ফোন বন্ধ থাকায় সন্দেহ বাড়ে। তাঁর কোনও খোঁজও ছিল না। এরপর সানন্দার পরিবারের তরফে মদনমোহনের বিরুদ্ধে চুঁচুড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। অবশেষে শুক্রবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, সানন্দাকে গলা টিপে খুন করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সাংসারিক অশান্তি ও পরকীয়ার সন্দেহ থেকেই এই খুন বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছেন তদন্তকারীরা। যদিও ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
১৩ বছর আগে নিজের পছন্দে মদনমোহন বারিককে বিয়ে করেছিলেন সানন্দা। মদনমোহনের বাড়ি ওড়িশার বালেশ্বর এলাকায় বলে জানা গিয়েছে। চুঁচুড়ার প্রতাপপুরে সানন্দার বাপের বাড়ি। বাপের বাড়ির কাছেই একটি ভাড়াবাড়িতে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে থাকতেন তিনি। তাঁদের বড় ছেলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে রামকৃষ্ণ মিশনে পড়াশোনা করে। ছোট সন্তানের বয়স পাঁচ বছর। সানন্দার মৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই খুনের মামলা রুজু করেছে পুলিশ। এই ঘটনার পিছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে এবং কীভাবে খুনের ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ছবি: পার্থ রাহা
