আবদুর রশিদ, নাইক্ষ্যংছড়ি:
তরুণ প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস, অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে ইসলামী সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। তাঁরা বলেন, ইসলামী সংগীত, নাশিদ ও সচেতনতামূলক সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তরুণদের সৃজনশীল ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা সম্ভব।
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী বাজারে ইসলামী সাংস্কৃতিক সংগঠন আল-মুত্তাকীন শিল্পীগোষ্ঠীর নতুন অফিস উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে বাইশারী বাজারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সংগঠনটির নতুন অফিস উদ্বোধন করেন বাইশারী ইউনিয়ন বিএনপি নেতা ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম উদ্দিন।
আল-মুত্তাকীন শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এম. আজিজ মাহমুদের পরিচালনায় এবং মুফতি রিদুওয়ানুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় আলেম-ওলামা, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমিটির পার্বত্যবিষয়ক সম্পাদক ও সাংবাদিক আবদুর রশিদ, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলী মোহাম্মদ মিনহাজ, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী ইলিয়াস সাও, মাওলানা ফারুকে আজম, মো. হামিদুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, সমাজে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সময়ে তরুণদের একটি অংশ মাদকসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে ইসলামী সংস্কৃতি ও সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।
তাঁরা আরও বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক প্রতিভাবান শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মী রয়েছেন। তাঁদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি এবং তরুণদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করতে আল-মুত্তাকীন শিল্পীগোষ্ঠীর মতো সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ সময় সংগঠনটির কার্যক্রম বাইশারীসহ নাইক্ষ্যংছড়ির বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রসারণের আহ্বান জানান তাঁরা।
সভাপতির বক্তব্যে মুফতি রিদুওয়ানুল হক বলেন, আল-মুত্তাকীন শিল্পীগোষ্ঠীর মাধ্যমে ইসলামী মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও সুন্দর সমাজ গঠনের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। নতুন অফিসকে কেন্দ্র করে নিয়মিত সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এম. আজিজ মাহমুদ বলেন, ইসলামী সংস্কৃতির চর্চার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে ভালো ও কল্যাণমূলক কাজে উৎসাহিত করাই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সংগঠনটির সার্বিক সফলতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
