ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন ঘিরে আটক হওয়ার পর মুক্তি পেয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিন শীর্ষ নেতা। এক বছর শান্তি ভঙ্গ না করার শর্তে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলেও, এমন কোনো মুচলেকায় সই করেননি বলে দাবি করেছেন অভিজিৎ দীপকে। মুক্তির পর আবার রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।মুক্তি পাওয়ার পর রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিজিৎ দীপকে লেখেন, “আমরা প্রতিবাদ জানাতে পারব না, এমন কোনো মুচলেকায় সই করিনি। আমরা আবারও রাজপথে নামব।”
এর আগে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছিল, ‘আগামী এক বছর শান্তি ভঙ্গ করবেন না’—এমন মুচলেকায় রোববার সকালে দিল্লির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত সিজেপির তিন শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে মুক্তি দিয়েছেন।
সিইসির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন কর্মসূচিতে অংশ নিতে শনিবার মুম্বাই থেকে আকাশপথে দিল্লি পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের ভেতর থেকেই অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। রোববার সকালে তাঁদের দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের নির্বাহী হাকিম আদালতে হাজির করা হলে মুক্তির আদেশ আসে।এর আগে শনিবার গভীর রাতে মোদি সরকারের কড়া সমালোচক জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। সিজেপির শনিবারের বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিতে আসা রাঠিকেও আটক করা হয়েছিল। এ সমাবেশকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারী ও রাজনীতিবিদসহ তিন হাজারের বেশি মানুষকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, সিজেপির তিন শীর্ষ নেতাকে আটকের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, তাঁরা আইনসম্মত নির্দেশ মানেননি এবং সহিংসতা ঘটিয়েছেন। এ কারণেই তাঁদের আটক করা হয়েছিল। এক বছর ধরে শান্তি বজায় রাখা ও ভালো আচরণের নিশ্চয়তা হিসেবে তাঁদের মুক্তির জন্য ৫০ হাজার টাকার একটি বন্ড জমা দেওয়া হয়েছে।
হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, সিজেপির শীর্ষ নেতাদের ছেড়ে দেওয়া হলেও বিক্ষোভ ঠেকাতে রোববারও দিল্লিজুড়ে কড়াকড়ি ও বিধিনিষেধ বজায় রেখেছে পুলিশ। বিশেষ করে যন্তর মন্তর এলাকা পুরোপুরি ঘিরে রাখা হয়েছে। রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং ৩০টি সংযোগস্থলে যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে শহরজুড়ে এক দিনে আনুমানিক সাত হাজার মানুষকে আটক করার পর রোববার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে সিজেপি। এদিন সংবাদ সম্মেলনে দলটির সহআহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, রাজধানী দিল্লির পরিস্থিতি এখন জরুরি অবস্থার মতো।
শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর দিল্লি পুলিশের কঠোর আচরণ, সরকারের মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং ট্রেন চলাচল ও মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন তাঁরা। সৌরভ দাস বলেন, সরকার রাজ্য প্রশাসনকে তার নিজের নাগরিকদের বিরুদ্ধেই দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। নির্ধারিত স্থানে বিক্ষোভ করতে চাওয়া আন্দোলনকারীদের বাধা না দিয়ে কর্তৃপক্ষ আলোচনার জন্য একটি প্রতিনিধি দলকে আমন্ত্রণ জানাতে পারত।
নেতাদের মুক্তির শর্তের প্রসঙ্গ টেনে সৌরভ দাস বলেন, “তারা আমাদের বেআইনিভাবে আটকে রেখেছিল। তারা বলেছে যে এক বছর ধরে কোনোভাবেই শান্তিভঙ্গ করা যাবে না। অথচ শান্তিভঙ্গ তো করেছেন নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ এবং জ্ঞানেশ কুমার।”
দিল্লির বাইরেও আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে সৌরভ দাস বলেন, “আন্দোলন চলছে… শুধু দিল্লিতেই নয়, সারা দেশেই এই আন্দোলন চলবে।”এদিকে টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, মুক্তির পর পুরোনো একটি মামলায় সিজেপি নেতাদের নতুন করে নোটিশ পাঠিয়েছে দিল্লি পুলিশ। রাজ্য হাই কোর্টের নির্দেশে এক নারীর করা অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় তাঁদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ওই নারীর অভিযোগ ছিল, তাঁর ছবি বিকৃত করে সিজেপি তা অনলাইনে ছড়িয়ে দিয়েছিল।
এর আগে ওই নারীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাই কোর্ট সিজেপি নেতাদের নোটিশ পাঠিয়েছিলেন এবং পুলিশকেও নোটিশ জারির নির্দেশ দিয়েছিলেন।
