বাংলাদেশে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধ, পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে টাঙ্গাইলের বিবেকানন্দ হাই স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গনের অডিটোরিয়ামে বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশে সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তর (DoE)উদ্যোগে ‘Integrated Approach Towards Sustainable Plastics Use and Marine Litter Prevention in Bangladesh’ প্রকল্পের আওতায় ও জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (UNIDO) -এর কারিগরি সহায়তা এবং বাংলাদেশস্থ রয়্যাল নরওয়ে দূতাবাসের আর্থিক সহায়তায় অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত আলোচনা সভায় পরিবেশ অধিদপ্তর, জাতিসংঘ শিল্প উ্ন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো) স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, বিবেকানন্দ হাই স্কুল এন্ড কলেজ বিভিন্ন শ্রেণীর শিক্ষার্থী, তরুণ স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় জনগণ, এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষসহ প্রায় তিন শতাধিকঅংশগ্রহণকারী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সংগঠন বেলা, একটি মানব উন্নয়ন সংস্থা,স্মরণীর প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন ও প্রকল্পের পরিচিতি তুলে ধরেন জাতিসংঘ শিল্পি উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো) বাংলাদেশের ন্যাশনাল এক্সপার্ট এস এম আরাফাত। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর, টাঙ্গাইলের উপপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম তালুকদার এবং অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিবেকানন্দ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, টাঙ্গাইলের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. বজলুর রহমান।
আলোচনা সভার শুরুতে অনুষ্ঠানের প্রাতিপাদ্য বিষয়, প্রকল্পের বিস্তরিত কার্জক্রম এবং লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তর আলোচনা করেন, UNIDO Bangladesh-এর ন্যাশনাল এক্সপার্ট এস এম আরাফাত। তিনি প্রকল্পের কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি এবং জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভার মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরেন।
তিনি প্লাস্টিকের উৎপাদন ও ব্যবহার থেকে শুরু করে সংগ্রহ,পুনঃব্যবহার, পুনর্ব্যবহার এবং চূড়ান্ত ব্যবস্থাপনা—প্লাস্টিকের পুরো জীবনচক্রে সমন্বিত
উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। পাশাপাশি জনগণের আচরণগত পরিবর্তনকে টেকসই প্লাস্টিক ব্যবস্থাপনার অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
এ সময় প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বায়োমেডিকেল বর্জ্য বিষয়ে সচেতনতামূলক ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে তিনি শিক্ষার্থীদের জায়গমত ময়লা ফেলার নিদের্শনা ও অভ্যাস গড়ে তোলার আহবান জানান। এবং জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি ইকো ক্লাব সহ বিভিন্ন পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন গড়ে তোলে সংগঠনের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ বিষয়ে সকলকে সচেতন করার আহবান জানা।
দৈনন্দিন জীবনে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার মাধ্যমে সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার বিষয়ে সকলকে একত্রে কাজ করার আহবান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের উপপরিচালক বলেন, আজকের শিক্ষাথীরা আগামীর পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। তাই এই প্রজন্মের উপর পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। শিক্ষাথীদের সরকারের নিদের্শন মেনে চলার উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। টাঙ্গাইলের সমসাময়িক প্লাস্টিক সহ সবধরণের পরিবেশ দূষণ নিয়ে তিনি আলোচনা করেন। প্রত্যেক নাগরিকদের তিনি পরিবেশ বিষয়ে আরো সেচেতন হওয়ার আহবান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বজলুর রহমান বলেন যে,সত্যিকারের পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বাংলাদেশের সকল নাগরিককে যত্রতত্র ময়লা না ফেলার পরামর্শ দেন। সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীসহ প্রত্যেক নাগরিক যদি তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করলে শিক্ষাথীরা যদি তাদের পথিগত জ্ঞান তাদের বাস্তব জীবনে প্রতিফলন ঘটায় তাহলে প্লাস্টিক দূষণ সহ যেসব দূষণ পরিবেশের ক্ষতি করছে সেগুলো কমিয়ে পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবতায় রূপ পাবে।
আলোচনা সভা শেষে অতিথিবৃন্দ ও অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে একটি একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক দূষণ বিষয়ক সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিটি স্কুল মাঠ থেকে বটতলা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। র্যালি শেষে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে আশেপাশ থেকে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা প্রায় ১১৭৯.২৩ কেজি একবারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়।
আলোচকদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশের জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি। এসব বর্জ্য সড়ক, নালা, খাল ও জলাশয়ে জমে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং নদী ও সামুদ্রিক পরিবেশে দূষণের ঝুঁকি বাড়ায়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্লাস্টিকের দায়িত্বশীল ব্যবহার, অপ্রয়োজনীয় একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পরিহার, পুনর্ব্যবহারের সুযোগ বৃদ্ধি এবং বর্জ্য উৎপত্তিস্থলেই পৃথক করার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহরের বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক পদযাত্রা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। পরে নির্ধারিত এলাকায় বর্জ্য সংগ্রহ ও পৃথকীকরণ কার্যক্রম পরিচালনার কথা রয়েছে। এতে পরিবেশ অধিদপ্তর, ইউনিডো, স্থানীয় প্রশাসন, স্থানীয় জনগণ, শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবীদের যৌথ অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবসের মূল চেতনা ধারণ করে আয়োজিত এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো—পরিচ্ছন্ন জনপরিসর গড়ে তোলা, প্লাস্টিক বর্জ্যের অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার রোধ করা এবং টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
বিজ্ঞপ্তি/
