মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে নিরাপত্তাঝুকির কারণে ব্যক্তিগত লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র উচিয়ে ধরেছিলেন বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তার দাবি, গেন্ডারিয়ায় অভিযানে যাওয়ার আগেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে নিরাপত্তাঝুকির তথ্য পেয়েছিলেন তিনি। মাদক কারবারিরা ভবনের ছাদ থেকে আকস্মিক গুলিবর্ষণ করতে পারে বলেও তাকে সতর্ক করা হয়েছিল।
রোববার প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে তার অংশগ্রহণ, অস্ত্র বহন এবং অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঢাকা-ছয় আসনের গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এবং আত্মরক্ষার জন্য লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র বহনের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খণ্ডিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে।
ইশরাকের অভিযোগ, ঘটনার কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও, ফটোকার্ড ও খণ্ডিত শিরোনাম প্রচার করে পুরো পরিস্থিতি যথাযথভাবে তুলে ধরা হচ্ছে না। এর মাধ্যমে তার ভূমিকা ও উদ্দেশ্য নিয়ে জনমনে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিবৃতিতে ইশরাক জানান, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়ে আসছেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর এসব এলাকা মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়। গত জুনে মাদক-সংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন নাগরিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভাও করেন।
মাদক কারবারিদের তৎপরতা বন্ধে জনবলসংকট দূর করা এবং মাদকের আস্তানাসংলগ্ন এলাকায় স্থায়ী পুলিশ ফাড়ি স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে আধাসরকারি পত্র দিয়েছিলেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। তবে এ উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়নাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
ইশরাকের দাবি, পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে সাধারণ নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অংশগ্রহণে সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচি নেওয়া হয়। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই তিনি গেন্ডারিয়ায় যান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে নিরাপত্তাঝুকি এবং মাদক কারবারিদের ছাদ থেকে আকস্মিক গুলিবর্ষণের আশঙ্কা সম্পর্কে সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন। কর্মসূচি চলাকালে একটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানার কাছে পৌছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন আইনলঙ্ঘনকারী ব্যক্তি হইচই করে তাদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসে বলে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তায় আমি এবং আমার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উচিয়ে ধরি।’ ইশরাকের ভাষ্য, সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হওয়ার পরপরই অস্ত্রটি যথাস্থানে রাখা হয়। তার দাবি, আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং আত্মরক্ষার প্রয়োজনে আইনি কাঠামোর মধ্যেই সেটি প্রদর্শন করা হয়েছিল।
বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনাস্থলে পৌছানোর সঙ্গে সঙ্গেই গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে পুলিশের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি ও সহায়তায় সন্দেহভাজন মাদকের আস্তানাগুলোতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় চার থেকে পাচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এসব আস্তানা থেকে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদকদ্রব্য, বিদেশি মদ, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, কয়েকটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
ইশরাক জানান, মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছয়জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। পরে জব্দ করা আলামতসহ তাদের গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। কিছু গণমাধ্যম খণ্ডিত তথ্য ও ফটোকার্ডের মাধ্যমে অপতথ্য ছড়াচ্ছে এবং বিকৃত সংবাদ পরিবেশন করছে বলে অভিযোগ করেন ইশরাক। তার দাবি, এসব প্রতিবেদনে অভিযানের সাফল্য, পুলিশের ভূমিকা, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং ছয়জনকে আটকের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘বিকৃত, মিথ্যা এবং সম্পূর্ণ বানোয়াট এসব সংবাদ মূলত অভিযানের সাফল্য, পুলিশের ভূমিকা, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং ছয়জন অপরাধী আটকের ইতিবাচক দিকটি সুপরিকল্পিতভাবে সম্পূর্ণ এড়িয়ে গেছে। এর মাধ্যমে তারা সরকার ও জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’ প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যমগুলোকে যেকোনো সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট তুলে ধরার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জনস্বার্থে মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
