দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে ডিম রপ্তানির সক্ষমতা অর্জনের তাগিদ দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, “এ জন্য উন্নতমানের ডিম উৎপাদন, উৎপাদন খরচ কমানো এবং পোলট্রি খাতের সার্বিক উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর তুলা উন্নয়ন বোর্ডের মিলনায়তনে 'বিশ্ব ডিম দিবস' উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়—‘প্রোটিন, যা শক্তি দেয় ও সুরক্ষা করে’।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এ বছর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে তৈরি হ্যাচিং ডিম নাইজেরিয়ায় রপ্তানি করা হয়েছে, যা অর্থনীতিতে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। আমরা যদি মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারি, তবে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বড় সুযোগ তৈরি হবে।”
খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পোলট্রি ফিডের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং ফিডে কোনো ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার না করার জন্য পোলট্রি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে পোলট্রি খামারে বিদ্যুতের খরচ কমাতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়ে সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রান্তিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, গ্রামীণ নারীদের হাঁস-মুরগি পালনে উদ্বুদ্ধ করা গেলে পারিবারিক প্রোটিনের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি তাঁদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া তরুণ উদ্যোক্তাদের এ খাতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের আহ্বায়ক মসিউর রহমান ও ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখার জেষ্ঠ্য সহসভাপতি মো. সিরাজুল হক।
এ সময় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা নওয়ারা জাহান, তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক কৃষিবিদ মোহা. রেজাউল আমিন এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমানসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
উল্লেখ্য, দিবসটি উপলক্ষে সকালে এক বর্ণাঢ্য র্যালি ও জনসাধারণের মাঝে বিনামূল্যে ডিম বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
জেএইচআর
