প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ · ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:০১ অপরাহ্ন
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল
হাওরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভরসা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল। প্রতিদিন প্রায় হাজারো রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। এসব রোগীদের সেবায় চিকিৎসকদের অনুমেদিত পদ রয়েছে ৭৪টি। এথচ এর বিপরীতে কর্মরত মাত্র ২৩ জন।
চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি রয়েছে নার্স ও অন্যান্য জনবলের ঘাটতি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামও নেই শয্যাসংখ্যার অনুপাতে। ফলে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও স্বজনেরা। কেউ বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে যাচ্ছেন, কেউ আবার জরুরি চিকিৎসা পেতে পড়ছেন বিপাকে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৭৪টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২৩ জন। ২৬৩টি নার্স পদের মধ্যে কর্মরত ১৯৩ জন। এ ছাড়া মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ অন্যান্য ১৩৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৮৮ জন। অনেক বিভাগেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিনিয়র ও জুনিয়র কনসালটেন্ট নেই। এর মধ্যে পাঁচ চিকিৎসককে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে বদলি করা হয়েছে। অথচ সেখানে এখনো হাসপাতাল কার্যক্রম চালু হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এতে সদর হাসপাতালের চিকিৎসক সংকট আরও বেড়েছে।
রোগীদের অভিযোগ, বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসকের দেখা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। রোগীর তুলনায় চিকিৎসক কম থাকায় সময়মতো সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকে বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষের ব্যয়ও বাড়ছে।
সদর উপজেলার এক রোগী বদরুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট নিয়ে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর চিকিৎসক দেখাতে পেরেছেন। হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা অনেক, কিন্তু চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা কম। সময়মতো সেবা না পেলে বাইরে গিয়ে চিকিৎসা করাতে হয়। এতে খরচও বেড়ে যায়। এ বিষয়ে সরকারের নজর দেওয়া উচিত।
চিকিৎসক ও নার্সের সংকটের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতিও রয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও যন্ত্রপাতি এখনো ১০০ শয্যার হিসাবেই রয়েছে। ফলে রোগীর চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দিতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা ১০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) নিয়েও রয়েছে সংকট। দুই দফা উদ্বোধন করা হলেও ইউনিটটি এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে সংকটাপন্ন রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটসহ অন্যান্য হাসপাতালে পাঠাতে হচ্ছে। এতে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি বাড়ছে।
অন্যদিকে, প্রায় দেড় বছর ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স। ফলে জরুরি প্রয়োজনে রোগীকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হলে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে বাড়তি খরচের বোঝা বহন করতে হচ্ছে রোগীর স্বজনদের।
এক রোগীর স্বজন ফজর মিয়া বলেন, জরুরি রোগী নিয়ে হাসপাতালে আসার পর অন্য হাসপাতালে নিতে হলে অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায় না। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি সচল থাকলে অনেক সুবিধা হতো। এখন রোগী স্থানান্তরের জন্য বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আলী আশরাফ সোহাগ বলেন, অতিরিক্ত রোগীর চাপের মধ্যেও সীমিত জনবল দিয়ে সাধ্য অনুযায়ী সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। জনবল সংকটের বিষয়টি ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
