সাংসদ ইউসুফ পাঠানছবি: ইউসুফ পাঠানের ফেসবুক পেজ
Published on
:
2 min read
প্রাক্তন ক্রিকেটার এবং তথা বহরমপুরের লোকসভা আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে ভোটে জিতে সাংসদ ইউসুফ পাঠানের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান। গুজরাটে বাড়ি কেনা নিয়ে সমস্যায় পড়েছিলেন তিনি। অবশেষে গুজরাটের ভদোদরায় তাঁর বাড়ির লাগোয়া ৯৭৮ বর্গমিটার সরকারি জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়ায় অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য সরকার। জমিটির আনুমানিক বাজারমূল্য ২০.৫৩ কোটি টাকা। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৫০০ বর্গমিটার জমি বিনামূল্যে এবং বাকি ৪৭৮ বর্গমিটার বাজারদরের ৫৫ শতাংশে দেওয়ার কথা। তবে চূড়ান্ত বরাদ্দ এখনও বাকি।
গত কয়েকমাসে বদলে গিয়েছে তারকা-ক্রিকেটারের রাজনৈতিক পরিচয়। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, জমি জটের সমাধানের সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে তাঁর দলবদলের। বাংলায় বিধানসভা ভোটে রাজ্যে পালাবদল ঘটতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের TMC-র হাত ছেড়ে বাকি ১৯ সাংসদের সঙ্গে NCPI-তে চলে যান বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠান।
১৪ বছরের বিতর্কিত জমি
২০১২ সালে ভদোদরা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের (VMC) কাছে জমিটি চেয়েছিলেন ইউসুফ। ২০১৪ সালে তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয় গুজরাট সরকার। পরে জমিটি দখলে রাখার অভিযোগে তাঁকে নোটিস পাঠায় পুরনিগম। বরাদ্দের দাবি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হলেও ২০২৫ সালে গুজরাট হাইকোর্টে ধাক্কা খান তিনি। ২০২৬ সালের ৩১ অগস্ট ডিভিশন বেঞ্চে আপিল প্রত্যাহার করে নেন ইউসুফ।
এরই মধ্যে জুলাইয়ে ওই জমি-সহ সাতটি জমি নিলামে বিক্রির প্রস্তুতি নিয়েছিল VMC। কিন্তু ১৩ অগস্ট রাজ্য সরকারের নির্দেশের ভিত্তিতে ইউসুফের জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়া ফের এগোয়। ২৯ অগস্ট সেই নির্দেশ পুরনিগমে পৌঁছয়।
অর্ধেক জমি উপহার, বাকি অংশে ছাড়?
সরকারি প্রস্তাব অনুযায়ী, ৯৭৮ বর্গমিটার জমির মধ্যে ৫০০ বর্গমিটার ইউসুফকে উপহার হিসেবে দেওয়ার কথা। বাকি ৪৭৮ বর্গমিটার জমি ভদোদরা আরবান ডেভেলপমেন্ট অথরিটির মূল্যায়ন কমিটির নির্ধারিত দামের ৫৫ শতাংশে বরাদ্দ করার প্রস্তাব রয়েছে।
জমিটির প্রতি বর্গমিটারের মূল্য ২.১০ লক্ষ টাকা ধরে হিসাব করলে মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২০.৫৩ কোটি টাকা। তবে ইউসুফকে কত টাকা দিতে হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ভদোদরা পুরনিগমের কমিশনার অরুণ বাবু জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের অনুমোদন মিলেছে। এ বার প্রস্তাবটি পুরনিগমের স্থায়ী কমিটির কাছে পেশ করা হবে। চূড়ান্ত বরাদ্দের জন্য পুরনিগমের নির্ধারিত অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। অর্থাৎ, জমি হস্তান্তরের জন্য এখনও পুরনিগমের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন।
দলবদলের পুরস্কার?
২০২৪ সালে তৃণমূলের টিকিটে বহরমপুর থেকে লোকসভায় জিতেছিলেন ইউসুফ। ২০২৬ সালে তৃণমূল ছেড়ে NCPI-তে যোগ দেওয়ার পরে জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়া এগোনোয় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে। তবে দলবদলের সঙ্গে সরকারি সিদ্ধান্তের সরাসরি যোগ রয়েছে, এমন কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
