কক্সবাজার,১৮ অক্টোবর-কক্সবাজারের একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মধ্যে তিনজন বরগুনার আমতলী উপজেলার একই পরিবারের সদস্য। তারা উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কালিপুরা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কবির তালুকদারের মেয়ে, ছেলে ও নাতনি। এ ঘটনায় নিহত আরও চারজনও তাদের আত্মীয়। অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের তিনজনসহ সাত স্বজনকে হারিয়ে আমতলীর কালিপুরা গ্রাম ও তাদের আত্মীয়স্বজনের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার আনন্দভ্রমণে কক্সবাজারে যান মো. কবির তালুকদারের পরিবারের সদস্যরা। তাদের সঙ্গে ছিলেন তার ভায়রা মামুনুর রশিদের পরিবারের সদস্যরাও। তারা কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে ওঠেন। তবে কবির তালুকদারের জামাতা নুরে আলম শুক্রবার ঢাকায় ফিরে যান।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার রিসোর্টে আগুন লাগার সময় কয়েকজন জানালা ভেঙে বের হতে পারলেও অন্যরা ভেতরে আটকা পড়েন। এ ঘটনায় কবির তালুকদারের মেয়ে ফারিহা কবির, ছেলে কৌশিক জেরিফ ও নাতনি ফাইজান আহম্মেদ নিহত হন। নিহত অন্য চারজন হলেন ইসরাত জাহান মালিহা, মিলিতা মেহজাবিন আলভি, লায়লা জাহান নাভিলা ও নাফিসতা মীম। তারা মামুনুর রশিদের পরিবারের সদস্য। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তাদের বাড়ি ঢাকার ফতুল্লা এলাকায়।
নিহত কৌশিক জেরিফ সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেছিলেন। এরপর তিনি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরিবারের তিন সদস্যকে একসঙ্গে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন স্বজনেরা।
অবসরপ্রাপ্ত যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কবির তালুকদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার আর কিছুই রইল না। আমার ছেলে, মেয়ে ও নাতি মারা গেছে। পাশাপাশি আমার ভায়রার পরিবারের চারজনও মারা গেছে।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, পরিবারের সদস্যদের মরদেহ উদ্ধারের জন্য শনিবার বিকেলে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গেছেন।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, অগ্নিকাণ্ডে আমতলীর একই পরিবারের তিনজন নিহত হওয়ার খবর তিনি শুনেছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
এস এম/ ১৮ অক্টোবর ২০২৬
