রাজশাহীর পবা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বড়বিলের সার্বিক উন্নয়নে খুব শীঘ্রই নানা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন পবা-মোহনপুর আসনের সংসদ সদস্য, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বড়বিল এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় হুজুরীপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিলের নানা সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে সংসদ সদস্যকে অবহিত করেন।
স্থানীয়দের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এমপি শফিকুল হক মিলন বলেন, বড়বিলের বেশিরভাগ সম্পত্তি সরকারি খাস জমি। বর্তমানে এই বিলে প্রচুর মাছ ও ধান চাষ হলেও জলাবদ্ধতা একটি প্রকট সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ (এলজিইডি) সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে বিলের মধ্য দিয়ে রাস্তা, ড্রেন ও খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভূমিহীনদের পুনর্বাসন এবং এলাকাটিতে পার্ক কিংবা কলকারখানা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বড়বিলের ব্যাপক উন্নয়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সরকারের উচ্চপর্যায় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বিলের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই বিলটি অত্যন্ত প্রাচীন। অতীতে জমিদাররা এই বিল নিজেদের আয়ত্তে রেখে সাধারণ মানুষকে দিয়ে জোরপূর্বক চাষাবাদ করাতো এবং প্রতিবাদ করলে নির্যাতনের শিকার হতে হতো। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেসব ব্যবস্থার অবসান ঘটেছে। আমরা যে যেখানেই থাকি না কেন, নিজেদের এলাকার পরিচয়ই আমাদের প্রধান পরিচয়। আগামী প্রজন্মের জন্য বর্তমান সরকার ও আমরা কিছু স্থায়ী কাজ করে যেতে চাই।”
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “বাংলার রাখালরাজা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার ডাক দিয়েছিলেন। তিনি পুকুরে মাছ চাষ, বাড়িতে হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু পালন এবং বাড়ির চারপাশে ফলমূল ও শাকসবজির চাষে জোর দিয়েছিলেন। তাঁর সেই দূরদর্শী নির্দেশনায় দেশের সাধারণ মানুষ স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছিল, যার ধারাবাহিকতা আজও বিদ্যমান।”
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা উল্লেখ করে সংসদ সদস্য বলেন, “বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছেন ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া। তিনি যেমন একজন মহীয়সী নারী ছিলেন, তেমনি অসাধারণ এক দেশপ্রেমিক প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। শত বাধা, নির্যাতন ও অত্যাচার সহ্য করে তিনি দেশ ছেড়ে কোথাও যাননি, বরং এদেশেই থেকেছেন। আজ তিনি কেবল কোনো দলের নন, বরং সমগ্র জাতির শ্রদ্ধভাজন ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।”
বর্তমান সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, “তাঁদেরই যোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের সার্বিক উন্নয়নে কাজ শুরু করেছেন। দেশে নতুন নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন এবং বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে যেমন বেকারত্ব দূর হবে, অন্যদিকে তরুণ সমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তাই দেশের এই অগ্রযাত্রায় সবাইকে বিএনপির পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি এবং নেতাকর্মীদের যেকোনো অন্যায় ও অনিয়ম থেকে দূরে থাকার কঠোর নির্দেশ দিচ্ছি।”
জনগণের উদ্দেশ্যে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে এমপি মিলন বলেন, “বর্তমান সরকার অপরাধ, দুর্নীতি ও আইনবহির্ভূত কাজের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কেউ কোনো অনিয়ম করলে তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সরকারের একজন মন্ত্রী ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যের পদত্যাগ। এমনকি গতকাল মঙ্গলবারও রাজশাহীতে একই ধরনের ঘটনায় বিভাগীয় কমিশনার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দনের সময় অতিরিক্ত ঘেষাঘেসি করার চেষ্টা করায় তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে ওএসডি করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।”
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন, হুজুরীপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শিহাব উদ্দিন, সদস্য সচিব মোতাহার হোসেন, পবা উপজেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তাইজুল ইসলাম, সাবেক সদস্য মাজদার রহমান এবং পবা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান হাফিজসহ স্থানীয় বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
জেএইচআর
