চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোলে ২-২ ব্যবধানে ড্র করেছে আর্সেনাল। বুধবার বায়ার্নের মাঠে ম্যাচের শেষ আট মিনিট বাকি থাকতে সমতাসূচক গোলটি করেন ডেকলান রাইস। গত মৌসুমের রানার্সআপ আর্সেনালকে এক পয়েন্ট এনে দেন ইংল্যান্ডের এই মিডফিল্ডার।
ম্যাচে শুরুতে চোটের কারণে বুকায়ো সাকাকে হারায় আর্সেনাল। তার বদলি হিসেবে মাঠে নেমে দলকে এগিয়ে দেন এবেরেচি এজে। তবে হ্যারি কেইনের দুর্দান্ত পাস থেকে আলফোনসো ডেভিস গোল করে বায়ার্নকে সমতায় ফেরান।
দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে গোল করে বায়ার্নকে এগিয়ে দেন কেইন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি জার্মানির ক্লাবটি। বিকল্প খেলোয়াড় হিসেবে নামা ভিক্টর ইয়োকেরেসের বুদ্ধিদীপ্ত পাস থেকে জোরালো শটে গোল করে আর্সেনালকে সমতায় ফেরান রাইস।
এই ড্রয়ের ফলে চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১২ ম্যাচে মাত্র দ্বিতীয়বার পয়েন্ট হারাল আর্সেনাল।
বায়ার্নের হয়ে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা উইঙ্গার মাইকেল অলিসে, জার্মান অধিনায়ক ইয়োশুয়া কিমিখ ও মিডফিল্ডার জামাল মুসিয়ালা এদিন খেলতে পারেননি। অসুস্থতার কারণে কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির খেলা নিয়েও অনিশ্চয়তা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ডাগআউটে উপস্থিত ছিলেন তিনি।
গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন খেলোয়াড় না থাকলেও কেইনের নেতৃত্বে আক্রমণে ধার বজায় রাখে বায়ার্ন। আর্সেনালের শক্তিশালী রক্ষণভাগের বিপক্ষে ইংলিশ অধিনায়ক আবারও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন। আগামী সপ্তাহে লন্ডনে ব্যালন ডি’অর পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান সামনে রেখে তার এই পারফরম্যান্স বাড়তি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আর্সেনালের বিপক্ষে এটি ছিল কেইনের ২৩ ম্যাচে ১৬তম গোল। দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে করা গোলের সুবাদে চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা ১০ ম্যাচে গোল করার কৃতিত্বও ধরে রাখেন তিনি। এ ক্ষেত্রে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর রেকর্ড থেকে মাত্র এক ম্যাচ দূরে রয়েছেন কেইন। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে টানা ১১ ম্যাচে গোল করেছিলেন পর্তুগিজ তারকা।
ম্যাচের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় আর্সেনাল। আট মিনিটের মাথায় উরুতে হাত দিয়ে মাঠে বসে পড়েন চলতি মৌসুমে দলের যৌথ সর্বোচ্চ গোলদাতা সাকা। এরপরই বদলি খেলোয়াড় নামানোর সংকেত দেন তিনি।
চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্নের আগের দুই প্রতিপক্ষ ছিল নরওয়ের দল। তবে আর্সেনালের শারীরিক সক্ষমতা ও চাপের মুখে শুরুতে কিছুটা সমস্যায় পড়ে স্বাগতিকেরা। মিকেল আর্তেতার দল তাদের নিজেদের অর্ধে আটকে রাখে।
২৫ মিনিটের মাথায় বায়ার্নের রক্ষণভাগের ওপর দিয়ে বল বাড়িয়ে দেন মার্টিন ওডেগার্ড। দ্রুতগতিতে ছুটে গিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করেন এজে।
প্রথমে অফসাইডের সংকেত দিয়েছিলেন সহকারী রেফারি। তবে ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনায় দেখা যায়, এজে অফসাইডে ছিলেন না। ফলে গোলের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।
এর ১০ মিনিট পরই সমতায় ফেরে বায়ার্ন। মাঝমাঠ থেকে দুর্দান্ত পাসে ডেভিসকে খুঁজে নেন কেইন। কানাডার এই উইঙ্গার বল নিয়ে গোলমুখে এগিয়ে নিচের কোণে নিখুঁত শটে জাল কাঁপান।
সমতায় ফেরার পর আক্রমণে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে বায়ার্ন। কেইনকে ফাউল করে পাল্টা আক্রমণ থামানোর কারণে হলুদ কার্ড দেখেন আর্সেনালের ডিফেন্ডার এজরি কনসা।
বিরতির পর দুই দলের গোলরক্ষকই দারুণ কিছু সেভ করেন। ব্রুনো গিমারায়েসের হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে ঠেলে দেন নয়্যার। অন্যদিকে দায়ো উপামেকানোর প্রচেষ্টা আটকে দেন স্প্যানিশ গোলরক্ষক দাভিদ রায়া।
দুই দলই একের পর এক আক্রমণ চালালেও শেষ পর্যন্ত কেইনের পেনাল্টিতে এগিয়ে যায় বায়ার্ন। পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে তার নেওয়া শট আর্সেনালের ইয়ুরিয়েন টিম্বারের হাতে লাগে। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। স্পট কিক থেকে গোল করতে ভুল করেননি কেইন।
এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বায়ার্নের হাতে বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু শেষ দিকে বদলি হিসেবে নামা ইয়োকেরেসের দারুণ পাস পেয়ে জোরালো শটে গোল করেন রাইস। তাতেই সমতায় ফেরে আর্সেনাল এবং বায়ার্নের মাঠ থেকে মূল্যবান এক পয়েন্ট নিয়ে ফেরে তারা।
