কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে গড়াই নদীর ওপর প্রস্তাবিত শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় তিনি বলেছেন, শহীদ আবরার ফাহাদকে মানুষের হৃদয়ে স্মরণীয় করে রাখতে এমন কাজ করতে হবে, যা শত বছর পরও মানুষ মনে রাখবে। সুন্দর সমাজ গঠনে যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের ঘোড়াঘাট-বড়বাজার সংযোগ সড়কে গড়াই নদীর ওপর প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শন শেষে বিএনপি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এমন কাজ করব আমরা, যাতে শত বছর ধরে মানুষ আমাদের মনে রাখে। শহীদ আবরার ফাহাদ কে ছিলেন, তা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। তাঁর স্মৃতি ধরে রাখতে আমাদের নিরলসভাবে কাজ করতে হবে।”
এর আগে প্রতিমন্ত্রী কুমারখালীর কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে শহীদ আবরার ফাহাদ জামে মসজিদ পরিদর্শন করেন। পরে তিনি আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত করেন।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও সুন্দর সমাজ গঠনে যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব শহিদুজ্জামান খান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবাদত আলী, প্রকল্প পরিচালক আশরাফুজ্জামান, কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুবউদ্দিন আহমেদ এবং সদস্যসচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, সেতু নির্মাণের দাবিতে শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় স্থানীয় সরকার বিভাগকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এ বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেয়। তবে এ নির্দেশনা সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর চূড়ান্ত অনুমোদন নয়।
প্রস্তাবিত সেতুটি বাস্তবায়িত হলে কয়া, শিলাইদহসহ আশপাশের এলাকার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিলাইদহ কুঠিবাড়ি ও ফকির লালন শাহের আখড়ার মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কুমারখালীর কয়া ইউনিয়নের ঘোড়াঘাট-বড়বাজার সংযোগ সড়কে গড়াই নদীর ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের নদী পারাপারের দুর্ভোগ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট এলাকার অনেক মানুষকে নদী পার হয়ে শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে যাতায়াত করতে হয়।
