সংবাদ · সাধারণ
উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির অজুহাতে বেড়েছে চালের দাম
২১/১০/২০২৬

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, শ্রমিকের মজুরি এবং ধানের বাড়তি দামের অজুহাতে চালের দর বাড়িয়েছেন মিলমালিকেরা। দেশের অন্যতম বৃহৎ চাল উৎপাদনকারী মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরে প্রায় সব ধরনের চালের দাম কেজিতে বেড়ে গেছে। মোটা চালের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও মিনিকেট, দেশি বাসমতীসহ প্রায় সব ধরনের সরু চালের দাম বস্তাপ্রতি (২৫ কেজি) ১০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।মিলমালিকদের দাবি, উৎপাদন খরচ বাড়ায় বাধ্য হয়েই তারা চালের দাম বাড়িয়েছেন। তবে এ বাড়তি দামের যাঁতাকলে পড়ে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। খুচরা বাজারের ক্রেতারা বলছেন, চালের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে তা তাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষের আয় বাড়ার কোনো সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। সীমিত আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে চালের দর সহনীয় পর্যায়ে আনার দাবি জানান তারা।মিল পর্যায়ে চালের দাম বাড়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। শহরের পৌর বাজারের এক খুচরা চাল বিক্রেতা জানান, মিলমালিকেরা পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় বাধ্য হয়ে তাদেরও বাড়তি দামে চাল বিক্রি করতে হচ্ছে। চাল কিনতে এসে ক্রেতারা খুচরা বিক্রেতাদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও বাস্তবে তাদের কিছুই করার থাকে না।খাজানগরের এক রাইস মিলমালিক জানান, আগের তুলনায় বিদ্যুৎ বিল, জ্বালানি তেল, শ্রমিকের মজুরি সবই বেড়েছে। এর পাশাপাশি ধানের বাজারও চড়া। তা ছাড়া ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চাল পাঠানোর পরিবহন খরচ ট্রাকপ্রতি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে প্রতি কেজি চালের পরিবহন খরচই বেড়েছে ২৫ পয়সা। ধান ও জ্বালানির বাড়তি দামের কারণেই চালের বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রভাব।কুষ্টিয়া জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন প্রধান বলেন, “জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরদিনই গাড়িভাড়া বেড়ে গেছে। চাহিদা ও উৎপাদনের তুলনায় বাজারে যেভাবে দাম বাড়ার কথা ছিল, সে তুলনায় এখনো কমই বেড়েছে।”তবে স্থানীয় পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের মতে, মিলগুলোতে ধানের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও পরিবহন ও জ্বালানির অজুহাতে বাজার অস্থিতিশীল করা হচ্ছে। প্রশাসনের কঠোর তদারকি না থাকলে সামনে চালের বাজার আরও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗