অনেকের সকাল শুরু হয় এক কাপ কফি দিয়ে। কফির ক্যাফেইন ঘুমঘুম ভাব দূর করে, সতর্কতা বাড়ায় এবং কাজে মনোযোগ দিতে সাহায্য করে। তবে সকালে নাশতার আগে খালি পেটে কফি পান করলে শরীরে কী ধরনের প্রভাব পড়ে, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে হজমের সমস্যা, বুকজ্বালা কিংবা অস্থিরতায় ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কফি পান কিছু অস্বস্তি বাড়াতে পারে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, খালি পেটে কফি পান করলে শরীরে কী কী প্রভাব পড়তে পারে।
১. পাকস্থলীতে অ্যাসিডের উৎপাদন বাড়তে পারে
কফি পান করলে পাকস্থলীতে অ্যাসিড উৎপাদন বাড়তে পারে। খাবার হজমে এই অ্যাসিড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে খালি পেটে কফি পান করার পর কিছু মানুষের পেটে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের পাকস্থলী সংবেদনশীল, তাদের ক্ষেত্রে এ সমস্যা বেশি অনুভূত হতে পারে।
তবে খালি পেটে কফি পান করলেই পাকস্থলীর ক্ষতি হয়, এমন নয়। অনেকেই কোনো ধরনের অস্বস্তি ছাড়াই কফি পান করতে পারেন।
২. বাড়তে পারে অম্লতা ও বুকজ্বালা
যাদের অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালিতে উঠে আসার সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে খালি পেটে কফি পান করলে উপসর্গ বেড়ে যেতে পারে। ক্যাফেইন খাদ্যনালির নিচের অংশের একটি পেশিকে শিথিল করতে পারে। এই পেশি সাধারণত পাকস্থলীর অ্যাসিড ও খাবার খাদ্যনালিতে ফিরে আসা ঠেকাতে সাহায্য করে।
এ ছাড়া কফি পাকস্থলীতে অ্যাসিড উৎপাদন বাড়াতে পারে। এর ফলে কারও কারও বুকে জ্বালাপোড়া, মুখে টক স্বাদ কিংবা পেটের ওপরের অংশে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
৩. অস্থিরতা ও উদ্বেগ বাড়তে পারে
কফিতে থাকা ক্যাফেইন কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে। এর ফলে সতর্কতা বাড়ে এবং ঘুমঘুম ভাব কমে। তবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ কিংবা ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীলতার কারণে কারও কারও অস্থিরতা ও উদ্বেগ বাড়তে পারে।
এ ছাড়া হাত কাঁপা, হৃদস্পন্দন দ্রুত হওয়া কিংবা অস্বস্তি অনুভব করার মতো লক্ষণও দেখা দিতে পারে। খালি পেটে কফি পান করলে এসব সমস্যা সবার ক্ষেত্রে বাড়ে—এমন নয়। ব্যক্তিভেদে ক্যাফেইনের প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।
৪. মলত্যাগের তাগিদ বাড়াতে পারে
কফি পান করার পর অনেকেরই দ্রুত মলত্যাগের তাগিদ অনুভূত হয়। এর কারণ, কফি অন্ত্রের সংকোচন বাড়িয়ে পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে বর্জ্য পদার্থ এগিয়ে যেতে সাহায্য করতে পারে। কফি হজমের সঙ্গে সম্পর্কিত গ্যাস্ট্রিন ও কোলেসিস্টোকাইনিনের মতো হরমোনের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই প্রভাব নিয়মিত মলত্যাগে সহায়তা করে। তবে যাদের পরিপাকতন্ত্র সংবেদনশীল, তাদের পেটে অস্বস্তি, হঠাৎ মলত্যাগের তাগিদ কিংবা পাতলা পায়খানা হতে পারে।
৫. সতর্কতা ও মনোযোগ বাড়ায়
সকালে কফি পান করার অন্যতম কারণ হলো ঘুমের ভাব কাটিয়ে সতেজ হওয়া। ক্যাফেইন মস্তিষ্কে অ্যাডেনোসিন নামের রাসায়নিকের কার্যক্রমে বাধা দেয়। অ্যাডেনোসিনের সঙ্গে ঘুমঘুম ভাবের সম্পর্ক রয়েছে। ফলে ক্যাফেইন গ্রহণ করলে সাময়িকভাবে সতর্কতা ও মনোযোগ বাড়তে পারে।
তবে কফির পরিমাণ বেশি হলে বা শরীর ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীল হলে এর বিপরীত প্রভাবও দেখা দিতে পারে। তাই নিজের সহনশীলতা অনুযায়ী কফি পান করা ভালো।
খালি পেটে কফি পান করলে কি পাকস্থলীতে আলসার হয়?
সকালের নাশতার আগে কফি পান করলে পাকস্থলীতে আলসার বা ঘা হয়—এমন একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে। তবে কফি সরাসরি পাকস্থলীতে আলসার সৃষ্টি করে, এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।
পাকস্থলীর আলসারের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি নামের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ এবং নির্দিষ্ট কিছু ব্যথানাশক ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহার করা।
তবে আগে থেকেই আলসার, অ্যাসিড রিফ্লাক্স কিংবা অন্য কোনো হজমজনিত সমস্যা থাকলে কফি পান উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে কফি পান করার পর শরীরে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হচ্ছে, তা খেয়াল রাখা জরুরি।
খালি পেটে কফি পান করা কি এড়িয়ে চলবেন?
খালি পেটে কফি পান করা সবার জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে কফি পান করার পর বুকজ্বালা, পেটে অস্বস্তি, অস্থিরতা কিংবা দ্রুত মলত্যাগের সমস্যা হলে নাশতার পরে কফি পান করে দেখতে পারেন। প্রয়োজন হলে কফির পরিমাণও কমিয়ে আনুন।
