ত্বকের অতিরিক্ত তেল, বড় হয়ে যাওয়া লোমকূপ, ব্রণ, নিস্তেজ ভাব এবং কালচে ছোপের মতো নানা সমস্যায় অনেকেই প্রতিনিয়ত ভুগে থাকেন। আজকাল ত্বকের সৌন্দর্য, উজ্জ্বলতা ও গঠন উন্নত করতে প্রসাধনী চিকিৎসা হিসেবে ‘কার্বন লেজার’ বা ‘কার্বন লেজার পিল’ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে প্রথমে পরিষ্কার ত্বকে তরল কার্বনের একটি পাতলা স্তর প্রয়োগ করা হয় এবং শুকিয়ে যাওয়ার পর বিশেষ লেজার রশ্মি ব্যবহার করা হয়। সাধারণত এই চিকিৎসার পর দীর্ঘ সময় বিশ্রামে থাকার কোনো প্রয়োজন হয় না। তবে সবার ত্বকের ধরন এক না হওয়ায় এই চিকিৎসা পদ্ধতি সমানভাবে কার্যকর নাও হতে পারে।
কার্বন লেজার মূলত ত্বকের উপরিভাগের মৃত কোষ, জমে থাকা অতিরিক্ত তেল ও ময়লা গভীরভাবে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে তৈলাক্ত ত্বক, বড় লোমকূপ, হালকা ব্রণ, অসমান ত্বক এবং নিস্তেজ ভাব দূর করার ক্ষেত্রে এটি দারুণ কাজ করে। এর ফলে ত্বকের উপরিভাগ মসৃণ হয় এবং চেহারায় একটি চমৎকার উজ্জ্বল ও সতেজ ভাব ফুটে ওঠে। এমনকি সূক্ষ্ম রেখা ও হালকা দাগের দৃশ্যমানতাও এতে বেশ কিছুটা কমে যায়। তবে মনে রাখতে হবে, এটি ত্বকের স্বাভাবিক রঙ বদলে দেওয়ার মতো কোনো চিকিৎসা নয়। একইভাবে গভীর ব্রণের দাগ কিংবা গুরুতর পিগমেন্টেশনের ক্ষেত্রে এটি একমাত্র সমাধান হিসেবে গণ্য করা ঠিক হবে না।
পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়াটি সাধারণত একটি অভিজ্ঞ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে শুরু হয়। তিনি প্রথমে ত্বক পরীক্ষা করে দেখেন এটি আপনার জন্য উপযোগী কি না। উপযুক্ত মনে হলে তরল কার্বনের প্রলেপ দেওয়া হয় এবং চোখের সুরক্ষার ব্যবস্থা করে লেজার প্রয়োগ করা হয়। লেজারের শক্তি কার্বন কণাকে বাষ্পীভূত করে মৃত কোষ ও ময়লা সরিয়ে ফেলে। পুরো বিষয়টি শেষ হতে প্রায় ৩০ মিনিটের মতো সময় লাগে।
একবার কার্বন লেজার করার পরই ত্বক কিছুটা পরিষ্কার ও উজ্জ্বল দেখাতে পারে। তবে কাঙ্ক্ষিত এবং টেকসই ফল পেতে হলে প্রায়শই একাধিক সেশনের প্রয়োজন হয়। সাধারণত দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর পর চার থেকে ছয়টি সেশন লাগতে পারে। চিকিৎসায় একাধিক সেশনের ফল সবসময় ভালো হলেও তা স্থায়ী নয় এবং ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে।
কার্বন লেজার করানোর আগে অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ত্বকে সক্রিয় সংক্রমণ বা অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা থাকলে চিকিৎসাটি এড়ানো উচিত। বিশেষ করে গাঢ় ত্বকে ভুল লেজার সেটিং ব্যবহার করলে হাইপার-পিগমেন্টেশনের ঝুঁকি থাকে। চিকিৎসার পর ত্বকে লালভাব বা শুষ্কতা দেখা দিলে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। পারলারের বদলে প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও মানসম্মত যন্ত্রের মাধ্যমে চিকিৎসা করানোই সবচেয়ে নিরাপদ।
লেখক : ত্বক-চর্ম-যৌন রোগ ও হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট বিশেষজ্ঞ এবং সহকারী অধ্যাপক, সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল
চেম্বার : ডা. জাহেদ’স হেয়ার অ্যান্ড স্কিনিক সেন্টার, পান্থপথ মোড়, ঢাকা
