সমীকরণটা কঠিন ছিল, তবে অসম্ভবের কাছাকাছি সেই লক্ষ্য ছোঁয়ার স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স। সেমিফাইনালে যেতে হলে দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া ২১১ রানের লক্ষ্য পেরোতে হতো মাত্র ১১.৫ ওভারে। কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জ নেওয়ার আগেই ব্যাটিংয়ে ধস নামে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দলের। শুরুতে তিন উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৮৮ রানের হার নিয়ে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডসের এবারের আসর থেকে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের।
শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার রাতে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা চ্যাম্পিয়ন্স। বড় সংগ্রহ গড়ার পথে দলটির হয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন জেপি ডুমিনি। অভিজ্ঞ এই ব্যাটার বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে ৪৯ বলে ৮৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। সাতটি চার ও পাঁচটি ছক্কায় সাজানো তার ইনিংসের ওপর ভর করেই ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২১০ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা।
ডুমিনির সঙ্গে কার্যকর ভূমিকা রাখেন ওয়েন পারনেল ও মর্ন ভন উইক। পারনেল ১৩ বলে ২২ এবং ভন উইক ১৯ বলে করেন ৩০ রান। কলিন ইনগ্রামও দলের সংগ্রহ বাড়াতে অবদান রাখেন। বাংলাদেশের হয়ে উইকেট পান রুবেল হোসেন, আবু জায়েদ রাহী ও কামরুল ইসলাম রাব্বি। তিনজনই একটি করে উইকেট নেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার বড় সংগ্রহের পর বাংলাদেশের সামনে ছিল ব্যাটিংয়ে ঝড় তোলার চ্যালেঞ্জ। কিন্তু প্রয়োজনীয় রান তোলার চাপ সামলানোর বদলে শুরুতেই উইকেট বিলিয়ে দেন ব্যাটাররা। মাত্র ৪ রানে দুই উইকেট হারানোর পর ১০ রান হওয়ার আগেই আরও একটি উইকেট পড়ে। এত দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি প্রতিপক্ষের হাতে তুলে দেয় বাংলাদেশ।
এরপর আর ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হয়নি। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২৬ বলে ৩৭ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। আরাফাত সানি শেষ দিকে ৩০ বলে ৩১ রান করেন। কিন্তু অন্যদের ব্যর্থতায় বড় কোনো জুটি গড়ে ওঠেনি। ফলে ১৮.৫ ওভারে ১২২ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস।
এই হারের ফলে পাঁচ ম্যাচে মাত্র একটি জয় নিয়ে আসর শেষ করল বাংলাদেশ। চারটি পরাজয়ে ২ পয়েন্ট নিয়ে ছয় দলের প্রতিযোগিতায় ষষ্ঠ স্থানে থেকে বিদায় নিতে হয়েছে রিয়াদদের। অথচ ভারতের বিপক্ষে ৩ রানের রোমাঞ্চকর জয় দিয়ে আসর শুরু করেছিল দলটি। সেই জয়ের পর প্রত্যাশা তৈরি হলেও পরের ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ।
অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার অভিযান এগিয়েছে ঠিক উল্টো পথে। বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় তাদের টুর্নামেন্টে পঞ্চম জয়। পাঁচ ম্যাচে পূর্ণ ১০ পয়েন্ট নিয়ে লিগ পর্বের শীর্ষ দল হিসেবে সেমিফাইনালে উঠেছে তারা।
শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে সুযোগ ছিল কঠিন সমীকরণ মেলানোর। কিন্তু ডুমিনির ব্যাটিং নৈপুণ্যের পর নিজেদের ইনিংসের শুরুতেই বিপর্যয় সেই সম্ভাবনা শেষ করে দেয়। ফলে সেমিফাইনালের স্বপ্ন পূরণ তো হলোই না, টুর্নামেন্ট শেষ করতে হলো ছয় দলের মধ্যে সবার নিচে থেকে।
