কক্সবাজারে ছুটির আনন্দ নিমিষেই পরিণত হলো গভীর শোক ও বিষাদে। ঢাকা থেকে পরিবারের সব সদস্যকে নিয়ে ঘুরতে গিয়ে মর্মান্তিক এক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন একই পরিবারের ছয়জন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী পাটোয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন একটি কাঠের তৈরি রিসোর্টে এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে ওই রিসোর্টে থাকা মোট ১০ জন পর্যটক নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে এক পরিবারেরই রয়েছেন ছয় সদস্য।
নিহতদের স্বজনেরা জানান, ঢাকার বনশ্রী থেকে পরিবারের সবাইকে নিয়ে আনন্দময় ছুটি কাটাতে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন মো. আশিকুল ইসলাম। সকালে রিসোর্টে আগুন লাগলে তিনি দোতলা থেকে নিচে লাফ দিয়ে অলৌকিকভাবে প্রাণ বাঁচান। তবে ধোঁয়া ও আগুনের গ্রাসে ঘটনাস্থলেই মারা যান তাঁর স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা ও শ্যালিকা লায়লা জাহান নাবিলসহ পরিবারের অন্য চার সদস্য।
ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন জানান, ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপ থেকে এ পর্যন্ত ১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আগুন লাগার কারণ জানতে ও উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করতে কাজ চলছে।
এদিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, উদ্ধার হওয়া ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তাঁরা হলেন- ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী শিশু ফায়িজান আহম্মেদ।
অগ্নিদগ্ধ ও গুরুতর আহত অবস্থায় আরও ছয়জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসাধীন ব্যক্তিরা হলেন- মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) এবং সামিদা (৩২)।
একই পরিবারের এতগুলো মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পর্যটন কেন্দ্রজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জেএইচআর
