Published on
:
2 min read
এই সময়: পুজোর ভিড়ে দুর্ঘটনা মোকাবিলায় এ বার কলকাতার বড় মণ্ডপে সরাসরি চিকিৎসক মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিল স্বাস্থ্য দপ্তর। চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে শনিবার ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর রবিবার ছুটির দিনেই তড়িঘড়ি একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করল স্বাস্থ্যভবন। কলকাতার পাঁচটি বড় পুজোয় নির্দিষ্ট পাঁচটি মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক দল মোতায়েনের পাশাপাশি হাসপাতালের পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে স্বাস্থ্য আধিকারিক থেকে কর্মীদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। তবে ছুটির দিনে এমন জরুরি সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশ্ন তুলেছেন চিকিৎসক সংগঠনের নেতারা। তাঁদের বক্তব্য, ভিড় নিয়ন্ত্রণের প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় চিকিৎসকদের উপর চাপানো হচ্ছে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী, সোমবার মহাষ্টমী থেকে বুধবার দশমী পর্যন্ত রোজ বিকেল ৫টা থেকে পরের দিন সকাল ৬টা পর্যন্ত পুজো মণ্ডপে থাকবেন চিকিৎসকেরা। সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারে দায়িত্ব সামলাবে এনআরএস মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক দল এবং টালা প্রত্যয়ে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকেরা। কলেজ স্কোয়্যারে থাকবে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ এবং একডালিয়া এভারগ্রিনে থাকবে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকেরা। আর চেতলা অগ্রণীতে থাকবে এসএসকেএমের চিকিৎসক দল। মেডিক্যাল অফিসারদের পাশাপাশি অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদমর্যাদার চিকিৎসকদেরও এই দায়িত্বে রাখা হয়েছে। শুধু মণ্ডপে চিকিৎসক পাঠিয়েই দায়িত্ব শেষ করতে চাইছে না স্বাস্থ্য দপ্তর। হাসপাতালের জরুরি পরিষেবা সচল রাখতে অর্থোপেডিক, নিউরোসার্জন ও অ্যানাস্থেটিস্টদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ট্রমার আঘাতজনিত জরুরি অস্ত্রোপচার নিপুণ ভাবে সামলানো যায়। পাশাপাশি পর্যাপ্ত অ্যাম্বুল্যান্স, রক্ত ও অক্সিজেনের জোগান মজুত রাখার কথাও বলা হয়েছে। রবিবার স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম রাজ্যের সব জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক, মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ এবং উপাধ্যক্ষদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। উৎসবের দিনগুলিতে যাতে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবায় কোনও ঘাটতি না থাকে, সে ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে সকলকে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশে ছাড় পাননি স্বাস্থ্য প্রশাসনের কর্তারাও। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি আধিকারিকদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। ছুটিতে থাকা আইএএস আধিকারিকদের কাজে যোগ দিতে বলা হয়েছে। দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে ভিড় এবং টাকিতে বিসর্জনের কথা মাথায় রেখে উত্তর ২৪ পরগনার স্বাস্থ্য প্রশাসনকেও বাড়তি সতর্কতা নিতে বলা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে সাসপেনশনের মতো শাস্তিমূলক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে আদেশনামায়। তবে এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ চিকিৎসকদের একাংশ। সরকারি চিকিৎসকদের সংগঠন সার্ভিস ডক্টর্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সজল বিশ্বাসের বক্তব্য, 'হাসপাতালেই চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে মণ্ডপে চিকিৎসক পাঠানো কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।' তাঁর অভিযোগ, পদপিষ্টের মতো দুর্ঘটনা এড়াতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। তার বদলে চিকিৎসকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
সমালোচনায় মুখর সরকারি চিকিৎসকদের আর এক সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টর্স। ওই সংগঠনের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক মানস গুমটার বক্তব্য, 'ভিড় নিয়ন্ত্রণ পুলিশের কাজ। সেই দায়িত্ব চিকিৎসকদের উপর চাপিয়ে পদপিষ্টের মতো ঘটনা আটকানো যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে!'
