Published on
:
2 min read
এই সময়, মেদিনীপুর: পুজোর আগে থেকেই বামেদের বইয়ের স্টল দেওয়া নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল। একাধিক জায়গায় তাঁদের স্টল ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে। সেই বাধা কাটিয়েই পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও পূর্ব মেদিনীপুর––তিন জেলায় বামেদের শারদীয়া বুকস্টলে আগের থেকে অনেক বেশি বই বিক্রি হয়েছে বলে দাবি সিপিএমের।
সিপিএমের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক বিজয় পাল জানান, এ বছর জেলায় মোট ৮৫টি বুকস্টল এবং দুটি ভ্রাম্যমাণ স্টল করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, মেদিনীপুর শহর, প্রেমবাজার, ঘাটাল, ক্ষীরপাই, পিংলা, মোহনপুর, গোয়ালতোড় ও নারায়ণগড়-সহ জেলার ১৮টি জায়গায় স্টল করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল বিজেপির তরফে। তবে কোথাও স্টল বন্ধ করা যায়নি বলে দাবি সিপিএম নেতৃত্বের।
সিপিএমের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত জেলায় বই বিক্রি চলবে। তারপর চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করা হবে। সিপিএমের অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা বিজেপি মুখপাত্রের দাবি, বিজেপি কোথাও বুকস্টলে হামলা চালায়নি বা বাধা দেয়নি। কত টাকার বই বিক্রি হয়েছে, তা নিয়ে সিপিএমের দাবি প্রচারে আসার কৌশল বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
ঝাড়গ্রামেও বামেদের বুকস্টল থেকে বই বিক্রি আগের মতোই হয়েছে বলে দাবি সিপিএমের জেলা সম্পাদক প্রদীপকুমার সরকারের। তিনি বলেন, ‘সাঁকরাইলে বুকস্টলে ভাঙচুর এবং নয়াগ্রামের বালিগেড়িয়ায় বুকস্টল বসাতে দেওয়া হয়নি। জেলা জুড়ে মাত্র ১১ টি বুকস্টল হয়েছিল। ২ লক্ষের বেশি বই বিক্রি হয়েছে। আমাদের উপর আক্রমণ না করা হলে বিক্রি আরও বাড়ত।’
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বামেদের বুক স্টলগুলিতে বই বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে বলে দাবি সিপিএমের। গত বছরের তুলনায় এ বছর স্টলের সংখ্যা যেমন বেড়েছে তেমনই বেড়েছে বই বিক্রি। জানা গিয়েছে, এ বছর জেলায় প্রায় ৭৭টি বুকস্টল ছিল। বিক্রি হয়েছে প্রায় ৩ লক্ষ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকার বই। যেখানে গত বছর জেলায় ৬৪টি বুকস্টল থেকে প্রায় ২ লক্ষ ৪২ হাজার ৯৬২ টাকার বিক্রি হয়েছে। সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হিমাংশু দাস বলেন, ‘বুকস্টল তৈরিতে বাধা দেওয়া ও আক্রমণের ঘটনার পরেও অনেক বেশি মানুষ আমাদের স্টলে এসেছেন এবং বই কিনেছেন।’
