আজকাল ওয়েবডেস্ক: কর্নাটকের বিজয়াপুর জেলায় স্বামীকে খুনের অভিযোগে স্ত্রী এবং তাঁর এক ‘প্রেমিক’-সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। খুনের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তারা পুরো বিষয়টি একটি পথ দুর্ঘটনা বলে সাজানোর চেষ্টা করেছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ৪ অক্টোবর বিজয়াপুর শহরের চিদম্বর মন্দির রোডের কাছ থেকে ৪২ বছরের রাজশেখর বিরাদারের দেহ উদ্ধার হয়। প্রথমে পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা হয়েছিল, কোনও গাড়ির ধাক্কায় হিট-অ্যান্ড-রান-এর জেরে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। রাজশেখরের স্ত্রী অশ্বিনী বিরাদার নিজেই থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
কিন্তু তদন্তে নেমে গোল বাঁধে। একটি সিসিটিভি ফুটেজে পুলিশ দেখে, ওই এলাকা দিয়ে নম্বরপ্লেট ছাড়া একটি কালো স্করপিও এবং একটি বাইক যাতায়াত করছে। এর পর পুলিশ বাইকচালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। আর তাতেই পর্দাফাঁস হয়- সামনে আসে বড় ষড়যন্ত্র।
পুলিশের জালে ধরা পড়েছে রাজশেখরের স্ত্রী অশ্বিনী, তাঁর প্রেমিক ২৫ বছরের আনন্দ কাল্লুর, ২৪ বছরের সচিন বদল্লি এবং এক কিশোর।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রায় ১০ বছর আগে রাজশেখর ও অশ্বিনীর বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের ছ’বছরের দুই যমজ ছেলেও রয়েছে। তবে গত বেশ কিছুদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি লেগেই থাকত।
প্রায় সাত মাস আগে একতা নগর এলাকায় একটি নতুন বাড়ি বানান রাজশেখর। সেই বাড়ির রঙের কাজের জন্যই কাল্লুরকে ঠিক করা হয়েছিল। কাজের সুবাদেই অশ্বিনীর সঙ্গে কাল্লুরের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং পরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
তদন্তকারীদের অনুমান, স্বামীকে রাস্তা থেকে সরাতে চেয়েছিল অশ্বিনী। সেইমতো কাল্লুরের সঙ্গে সে খুনের ছক কষে। রাজশেখর প্রতিদিন সকালে প্রাতর্ভ্রমণে যান। সেই খবরও কাল্লুরকে অশ্বিনীই দিয়েছিল বলে পুলিশের দাবি।
ঘটনার দিন সকালে বরাবরের মতো হাঁটতে বেরিয়েছিলেন রাজশেখর। পুলিশ জানিয়েছে, কাল্লুর ও তার সঙ্গীরা আগে থেকেই তাঁর ওপর নজর রাখছিল। এর পর একটি নম্বরপ্লেটহীন কালো স্করপিও গাড়ি দিয়ে রাজশেখরকে পিছন থেকে সজোরে ধাক্কা মারা হয়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করে তারা চম্পট দেয়।
