প্রকাশ: রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৫ পিএম
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মোবাইল ফোন নিয়ে বিরোধের জেরে মো. রিয়াজ (২২) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত দুই আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে সাতকানিয়া থানা পুলিশ।
নিহত রিয়াজ সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের বারদোনা মোল্লাপাড়ার বাসিন্দা ড্রাইভার নাজিম উদ্দিনের ছেলে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে চার টার দিকে উপজেলার সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের শাহ মজিদিয়া মার্কেট এলাকায় তাকে মারধরের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কামরুল হাসান, সাইমুন উদ্দিন শাকিল, মো. অনিক হাসান ও মো. ফরহাদ।
নিহতের মা রোজিনা আকতারের দায়ের করা মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রিয়াজের বন্ধু মো. শাহাদাত (৩০), মো. জায়েদ (২৫), মো. আব্বাস (৩০), অনিক (৩০), মো. ফরহাদ (২৫)সহ কয়েকজন তাকে বাড়ি থেকে ডেকে স্থানীয় শাহ মজিদিয়া মার্কেট এলাকার একটি দোকানে নিয়ে যান। সেখানে রিয়াজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি নিজের বলে দাবি করেন তাঁর এক বন্ধু। এ নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে তারা কাঠের বাটাম দিয়ে রিয়াজকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তার মাথা, নাক ও মুখে গুরুতর জখম হয় এবং মুখের কয়েকটি দাত পড়ে যায়। প্রাণ বাচাতে রিয়াজ পাশের একটি ফার্মেসিতে আশ্রয় নিলেও হামলাকারীরা তাকে সেখান থেকে টেনে বের করে নাছির নামের এক ব্যক্তির দোকানের সামনে সড়কে নিয়ে আবারও মারধর করেন। পরে তাকে আহত অবস্থায় সড়কে ফেলে রেখে চলে যান তারা।
পরে স্থানীয় লোকজন ও রিয়াজের চাচা মো. জহির তাকে উদ্ধার করে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় রোজিনা আকতার বাদী হয়ে পাচজনের নাম উল্লেখ করে এবং কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে সাতকানিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত দুই আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
