The Sangbad · স্বাস্থ্য
গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবা নিশ্চিত করতে হবে
২৪/১০/২০২৬

মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারী, শিশু ও দরিদ্র মানুষের জন্য এসব কেন্দ্র অনেকটাই ভরসার জায়গা। প্রয়োজনীয় জনবল, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর অভাবে এসব কেন্দ্র অকার্যকর হয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়ে।যশোরের অভয়নগর উপজেলার আটটি ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো নানা সংকটে জর্জরিত। দীর্ঘদিনের সংকটে এসব কেন্দ্রের স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে চিকিৎসা নিতে মানুষকে দূরের হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। এ নিয়ে সংবাদ-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।উপজেলার আটটি কেন্দ্রে আটজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। বাকি ছয়টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। অন্যান্য পদেও রয়েছে জনবলসংকট। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর অভাব। প্রায় এক বছর ধরে জরুরি ওষুধের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে সাধারণ রোগের চিকিৎসা এবং অন্তঃসত্ত্বা নারীদের প্রাথমিক সেবা দিতেও কর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।রাজঘাট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের জরাজীর্ণ ভবন পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রের মূল ভবনে তালা ঝুলছে। দেয়াল ও ছাদে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা তো দূরের কথা, ভবনটির নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে, প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে ২৫ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে।সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবা না পেয়ে মানুষ অননুমোদিত চিকিৎসাকেন্দ্রের দিকে ঝুঁকছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও সরঞ্জাম না থাকলে রোগীরা আরও ঝুঁকিতে পড়বেন। তাই সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও নজরদারিতে রাখা প্রয়োজন।এ সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। শূন্য পদে জনবল নিয়োগ, নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী নিশ্চিত করতে হবে। জরাজীর্ণ ভবন মেরামত বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগও জরুরি। একই সঙ্গে সেবার মান নিয়মিত তদারক করতে হবে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗