ফুটবল মাঠে তার পায়ের জাদু যেমন মুগ্ধ করেছে সমর্থকদের, তেমনি সোনালি কোঁকড়ানো চুলও তাকে দিয়েছিল আলাদা পরিচিতি। কলম্বিয়ার কিংবদন্তি ফুটবলার কার্লোস ‘এল পিবে’ ভালদেরামার সেই চিরচেনা চেহারায় এবার বড় পরিবর্তন এসে গেছে। দীর্ঘদিনের আইকনিক সোনালি চুল ছেড়ে মাথা পুরোপুরি ন্যাড়া করেছেন তিনি। আর এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছেন তার স্ত্রী এলভিরা রেদোন্দো।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ক্লিপার দিয়ে ভালদেরামার মাথার চুল কামিয়ে দিচ্ছেন তার স্ত্রী। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয়েছে আলোচনা। অনেকেই কিংবদন্তি এই ফুটবলারের নতুন চেহারা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। এমনকি ভিডিওটি আসল কি না, নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি- তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।
বিজ্ঞাপন
তবে ভিডিওটির সবচেয়ে আলোচিত দিক শুধু ভালদেররামার চেহারার পরিবর্তন নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার চুলের প্রতি দীর্ঘদিনের অনুরাগ এবং ১৯৯৪ বিশ্বকাপের আগে পাওয়া দুই মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনা।
যে চুলের জন্য ফিরিয়ে দিয়েছিলেন দুই মিলিয়ন ডলার
বিজ্ঞাপন
ফুটবল বিশ্বে ভালদেররামার পরিচিতি শুধু তার অসাধারণ পাসিং, মাঠের দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা নেতৃত্বের জন্য নয়। তার সোনালি কোঁকড়ানো চুলও তাকে অন্য সবার থেকে আলাদা করেছে। নব্বইয়ের দশকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার উপস্থিতি মানেই ছিল সেই বিশেষ চুলের স্টাইল, যা সহজেই চিনিয়ে দিত কলম্বিয়ার এই তারকাকে।
ভালদেরামার চুল এতটাই পরিচিতি পেয়েছিল যে, ১৯৯৪ বিশ্বকাপের আগে তা কাটার জন্য তাকে দুই মিলিয়ন ডলারের (প্রায় ২৫ কোটি টাকা) প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি নিজেই একসময় জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিপুল অর্থের সেই প্রস্তাবও গ্রহণ করেননি তিনি। নিজের পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠা চুল কাটতে রাজি হননি কলম্বিয়ার এই কিংবদন্তি।
সেই ঘটনার পর কয়েক দশক পেরিয়ে গেছে। কিন্তু তার সোনালি কোঁকড়ানো চুল ফুটবলপ্রেমীদের কাছে রয়ে গেছে এক বিশেষ প্রতীক হয়ে। তাই এবার তার মাথা ন্যাড়া করার দৃশ্য সামনে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই পুরোনো সেই ঘটনার প্রসঙ্গ আবারও আলোচনায় এসেছে।
বিজ্ঞাপন
ক্লিপার হাতে স্ত্রী, বদলে গেল চিরচেনা চেহারা
সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ভালদেররামার মাথার চুল ক্লিপার দিয়ে কামিয়ে দিচ্ছেন তার স্ত্রী এলভিরা রেদোন্দো। একসময় যে চুল ছিল তার ব্যক্তিত্ব ও ফুটবলীয় পরিচয়ের অন্যতম প্রধান অংশ, সেই চুলই এবার পুরোপুরি বিদায় নিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ভিডিওটি দেখার পর অনেক সমর্থক বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের চেহারায় অভ্যস্ত ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ভালদেররামার এমন রূপান্তর সহজে মেনে নেওয়ার মতো নয়। কেউ কেউ তো ভিডিওটির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের ধারণা, দৃশ্যটি বাস্তব নয়, বরং এআই দিয়ে তৈরি হতে পারে।
যদিও ভিডিওতে ভালদেরামা ও তার স্ত্রী এলভিরা রেদোন্দোকে বলতে শোনা যায়, এটা এআই নয়, রিয়াল ভিডিও।
তবে সরবরাহ করা প্রতিবেদনে ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের চূড়ান্ত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। নিশ্চিতভাবে যা বলা যায়, ভিডিওটি ভালদেররামার চিরচেনা চেহারার পরিবর্তন নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করেছে।
বিজ্ঞাপন
মাঠের বাইরেও আলাদা ব্যক্তিত্বের প্রতীক ছিল চুল
কার্লোস ভালদেররামা কলম্বিয়ার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম পরিচিত মুখ। তার সোনালি কোঁকড়ানো চুল কেবল ব্যক্তিগত স্টাইল ছিল না; সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটি তার পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়। ফুটবল মাঠে তাকে চিনতে সমর্থকদের খুব বেশি সময় লাগত না। দূর থেকে দেখলেও তার চুল তাকে আলাদা করে চেনার জন্য যথেষ্ট ছিল।
১৯৯০-এর দশকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে কলম্বিয়ার উত্থানের সময় ভালদেররামা ছিলেন দলের অন্যতম প্রধান তারকা। তার খেলার ধরন, নেতৃত্ব এবং স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব তাকে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি এনে দেয়। সেই পরিচিতির সঙ্গে মিশে যায় তার সোনালি চুলও।
বিজ্ঞাপন
ফলে এত বছর পর তার চুল কেটে ফেলার ঘটনা নিছক বাহ্যিক পরিবর্তনের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। সমর্থকদের কাছে এটি এমন এক ফুটবলারের চিরচেনা পরিচয়ের পরিবর্তন, যাঁর ব্যক্তিত্বের সঙ্গে একটি বিশেষ চুলের স্টাইলও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল।
দুই মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব থেকে মাথা ন্যাড়া- সময় বদলেছে
বিজ্ঞাপন
১৯৯৪ বিশ্বকাপের আগে দুই মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব পেয়েও চুল কাটতে রাজি হননি ভালদেরামা। আর এবার তার স্ত্রী নিজেই ক্লিপার দিয়ে মাথার সব চুল কামিয়ে দিয়েছেন- এই দুই ঘটনার বৈপরীত্যই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
যে চুল একসময় বিপুল অর্থের বিনিময়েও কাটতে চাননি তিনি, কয়েক দশক পর সেই চুল ছেড়ে দেওয়ার দৃশ্য ভক্তদের জন্য তাই বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। যদিও কেন তিনি এবার চুল কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সে বিষয়ে সরবরাহ করা প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
তবু একটি বিষয় স্পষ্ট, ভালদেররামার চেহারার এই পরিবর্তন ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বড় চমক হয়ে এসেছে। মাঠের অসাধারণ পারফরম্যান্সের পাশাপাশি নিজের স্বতন্ত্র চেহারার জন্যও যিনি বছরের পর বছর আলোচনায় ছিলেন, তার এমন রূপান্তর নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছে- সময় বদলায়, বদলায় মানুষের চেহারাও। তবে কিংবদন্তিদের পরিচিতি অনেক সময় তাদের চেহারার বাইরেও অমলিন থেকে যায়।
আইএইচএস/
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
