
প্রতীকী ছবি।ছবি সৌজন্য়ে: AI
Published on
:
2 min read
দেশের শেয়ার বাজার বৃহস্পতিবার বুল রানের সাক্ষী থাকল। সেনসেক্স ও নিফটি৫০— দুই স্টক এক্সচেঞ্জের বেঞ্চমার্ক ইনডেক্স এ দিন প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। যদিও স্মল ক্যাপ ও মিড ক্যাপ ইনডেক্সগুলি কিছু ঝিমিয়ে আছে। কিন্তু লার্জ ক্যাপ স্টকে কেনাকাটার জেরেই সেনসেক্স ও নিফটি-র গ্রাফ লাফিয়ে বাড়ছে।
শেষ ক্লোজ়িংয়ের থেকে হায়ার পয়েন্টেই এ দিন ওপেনিং হয়েছিল সেনসেক্স ও নিফটি৫০-র। তার পরে বেলা যত গড়িয়েছে, এই দুই সূচক ততই বেড়েছে। পৌনে ২টো নাগাদ, সেনসেক্স বেড়েছিল ১৫২১ পয়েন্ট বা ২.০৯ শতাংশ। এই বৃদ্ধির জেরে নিফটি ৭৪,৩০০ পয়েন্ট পার করেছিল। অন্য দিকে ১.৯১ শতাংশ বা ৪৩২ পয়েন্ট বেড়ে ২৩,০৫০ পয়েন্ট পেরিয়েছিল।
সেক্টরাল ইনডেক্সগুলির মধ্যে সবচেয়ে দুরন্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে নিফটি আইটি। ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের এই গুরুত্বপূর্ণ ইনডেক্স বেড়েছে ২ শতাংশের বেশি। এই সপ্তাহের একাধিক ট্রেডিং সেশনে নিফটি আইটি সূচকের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। এ ছাড়া নিফটি-তে প্রাইভেট ব্যাঙ্ক, অটো, ফিনানশিয়াল সার্ভিস, ইনফ্রাস্ট্রাকচার, অয়েল অ্যান্ড গ্যাস, ক্যাপিটাল মার্কেট, ট্যুরিজ়ম, রিয়েলটি, ব্যাঙ্কের মতো সেক্টরাল ইনডেক্সেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। তবে নিফটি পিএসইউ ব্যাঙ্ক সেক্টরাল ইনডেক্স এই চাঙ্গা বাজারেও ডাউন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার শেয়ার বাজারে এই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির পিছনে বেশ কয়েকটি কারণের কথা উঠে এসেছে বাজার বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে। দেখুন কোন তিনটি কারণের কথা জানালেন তাঁরা।
১. লার্জ ক্যাপ স্টকে কেনাকাটা
বাজারে অনিশ্চয়তা থাকায় বিনিয়োগকারীদের একাংশ এখন লার্জ ক্যাপ বা বড় সংস্থার শেয়ারে বেশি ভরসা রাখছেন। এই সংস্থাগুলির ব্যবসা তুলনামূলক ভাবে স্থিতিশীল। স্মল ক্যাপ ও মিড ক্যাপের তুলনায় বড় সংস্থার শেয়ারে ঝুঁকি কিছুটা কম বলে মনে করছেন অনেকে। বিশ্ব জুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও তাই লার্জ ক্যাপ স্টকে কেনাকাটা বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার সেনসেক্সের বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল ভারতী এয়ারটেল, আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক, রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজ, ইনফোসিস এবং টিসিএসের। এই বড় সংস্থাগুলির শেয়ারে কেনাকাটাই বাজারের প্রধান সূচকগুলিকে উপরে তুলতে সাহায্য করেছে।
২. বিশ্ব জুড়ে AI স্টকে বিক্রি, ভারতের বাজারে আশার আলো
বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-ভিত্তিক সংস্থার শেয়ারে বিক্রির চাপ বেড়েছে। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক প্রায় ৮ শতাংশ এবং তাইওয়ানের বাজার সূচক প্রায় ৪ শতাংশ পড়েছিল। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ার বাজারেও টানা পতনের প্রবণতা দেখা গিয়েছে। AI সংস্থাগুলির শেয়ারের দাম অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় সেগুলির মূল্যায়ন নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গত এক বছরে ভারতীয় শেয়ার বাজারের তুলনামূলক দুর্বল পারফরম্যান্সের অন্যতম কারণ ছিল AI-ভিত্তিক শেয়ারে বিনিয়োগের প্রতি বিদেশি লগ্নিকারীদের বেশি আগ্রহ। তাই এই শেয়ারগুলিতে সংশোধন হলে ভারতীয় বাজারে বিদেশি লগ্নিকারীদের বিক্রির চাপ কমতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ প্রসঙ্গে জিওজিৎ ইনভেস্টমেন্টসের চিফ ইনভেস্টমেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট ভি কে বিজয়কুমারের বলেছেন, ‘ভারতের বাজারের দিক থেকে দেখলে AI শেয়ারে এই সংশোধন ইতিবাচক। যে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ার বিক্রি করে AI-ভিত্তিক শেয়ারে টাকা ঢালছিলেন, তাঁদের সেই প্রবণতা থামতে পারে। পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে তাঁরা আবার ভারতীয় বাজারে বিনিয়োগও বাড়াতে পারেন।’
৩. দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের ফলাফল ঘিরে আশা
চলতি অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের আর্থিক ফলাফল ঘিরেও বাজারে আশার সঞ্চার হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের দুই বড় সংস্থা টিসিএস ও এইচসিএল টেক প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল করেছে। সংস্থা দু’টির বক্তব্যেও ব্যবসার পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির ইঙ্গিত মিলেছে। এর ফলে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের শেয়ার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার নিফটি আইটি সূচক ২ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। টানা তিনটি ট্রেডিং সেশনে এই সূচকের বৃদ্ধি ৯ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এর পাশাপাশি বাজারের অন্য কয়েকটি ক্ষেত্রেও নির্বাচিত শেয়ারে কেনাকাটা হয়েছে।
তবে বাজারের সামনে ঝুঁকিও রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি, আমেরিকায় বন্ডের সুদের হার উঁচু থাকা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের টাকা তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাজারে চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
