পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বাউফলের অসহায় ইউসুফ হাওলাদারের পরিবারকে নগদ অর্থসহায়তা দিয়ে স্থায়ী কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিয়েছেন এবং বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বে থাকলে সমাজের কোনো পরিবার অবহেলিত থাকবে না।
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়নের বামনিকাঠি গ্রামের অসহায় ইউসুফ হাওলাদারের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। পরিবারের একাধিক সদস্যের অসুস্থতা, চরম আর্থিক সংকট ও মানবেতর জীবনযাপনের খবর পেয়ে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তিনি তাঁদের খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি পরিবারটিকে নগদ আর্থিক সহায়তা দেন এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেন, “জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বে থাকলে সমাজের একটি পরিবারও অবহেলিত থাকবে না।” বাউফলের জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিটি মানুষকে সমানভাবে বিবেচনা করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবার প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানো তাঁর দায়িত্ব। নিজের দায়িত্ববোধ থেকে তিনি প্রতিটি মানুষের খেদমত করে যাবেন।
জামায়াতে ইসলামী বৈষম্যহীন মানবিক সমাজ বিনির্মাণে কাজ করছে উল্লেখ করে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, দলমত, ধর্ম-বর্ণ ও জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে রাষ্ট্রের সব নাগরিককে সমান সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে।
উল্লেখ্য, বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়নের বামনিকাঠি গ্রামের ইউসুফ হাওলাদার (৭০) ও তাঁর স্ত্রী ফুলচান (৬০) দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। তাঁদের বড় ছেলে নুরুল ইসলাম (৩৭) ও বড় মেয়ে রাসেদা (৩২) মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছেন। ছোট ছেলে সবুজ (১৮) বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত। পরিবারের একাধিক সদস্য অসুস্থ হওয়ায় চিকিৎসা, খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করা তাঁদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
পরিবারের সাত সন্তানের মধ্যে মেজো ছেলে জব্বার (২৬) ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। সীমিত আয়ে নিজের পরিবারের পাশাপাশি অসুস্থ স্বজনদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করলেও সবার প্রয়োজন মেটানো তাঁর পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি পরিবারটিকে দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তাঁদের স্থায়ী কর্মসংস্থান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সার্বিক কল্যাণে সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয়রা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
