কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত জ্বালানি ‘ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল’ বা ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান বহনকারী গাড়িবহর রূপপুর পৌঁছেছে। গতকাল সকাল ১০টায় ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে আসা ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়। এর আগে ৩ অক্টোবর প্রথম চালান রূপপুর নেওয়া হয়।
এর আগে গত ২ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাশিয়া থেকে ভারত হয়ে বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে ইউরেনিয়ামের চালান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে সড়কপথে চালানটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নেওয়া হয়।
এদিকে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে গত ১১ অক্টোবর সফলভাবে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়। এর আগে গত ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) প্রথম ইউনিটে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। এই কেন্দ্রের চুল্লিতে তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৯টি ফ্লাইটে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বল দেশে আসবে। রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে এসব চালান বাংলাদেশে পৌঁছাবে।
বাংলাদেশের ইতিহাসের বৃহত্তম ও প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার এই মেগা প্রকল্পটি এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর চূড়ান্ত প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছে।
