টানা ছুটি আর প্রকৃতির টানে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাটসংলগ্ন পদ্মার বুকে জেগে ওঠা চরে ভিড় করছেন হাজারো পর্যটক। পদ্মার বিস্তীর্ণ বালুচর, নির্মল বাতাস আর নদীর মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে পরিবার-পরিজন নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা। দুর্গাপূজার ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পদ্মাপাড়ের এই এলাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, পদ্মার বিস্তীর্ণ বালুচরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে মেতে উঠেছেন আনন্দ-আড্ডায়। শিশুদের দৌড়ঝাঁপ, বালুচরে ঘুড়ি ওড়ানো আর দর্শনার্থীদের ছবি তোলার দৃশ্যে পুরো এলাকায় তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। তরুণ-তরুণীদের অনেকেই পদ্মার পাড়ে দাঁড়িয়ে মুঠোফোনে সেলফি তুলে ধরে রাখছেন ভ্রমণের স্মৃতি।
শহরের ব্যস্ততা আর ইট-পাথরের যান্ত্রিক জীবন থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন পদ্মাপাড়ের এই প্রাকৃতিক পরিবেশ। নদীর শান্ত রূপ, খোলা আকাশ আর বিস্তীর্ণ বালুচর দর্শনার্থীদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
ঢাকার মিরপুর থেকে পরিবার নিয়ে শিমুলিয়া ঘাটে ঘুরতে আসেন একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকা আছমা বেগম।
তিনি বলেন, ‘দুর্গাপূজার ছুটিতে স্কুল বন্ধ থাকায় শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসেছি। শিমুলিয়া ঘাটের কথা অনেক শুনেছি। কিন্তু আগে কখনো আসা হয়নি। এবার ছুটি পেয়ে ঘুরতে এলাম।’
নারায়ণগঞ্জ থেকে বেড়াতে আসা ব্যবসায়ী আজিম উদ্দিন বলেন, ‘এখানে এসে বেশ ভালো লাগছে। পদ্মার নির্মল বাতাস আর স্বচ্ছ জলরাশি মন কেড়ে নেয়। ব্যবসার ব্যস্ততার কারণে তেমন কোথাও বেড়াতে যাওয়া হয় না। এখানে না এলে বুঝতেই পারতাম না, জায়গাটি এত সুন্দর।’
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাপ্তাহিক ছুটি ও বিশেষ ছুটির দিনগুলোতে শিমুলিয়া ঘাটসংলগ্ন জেগে ওঠা চরটি অনেকটা অস্থায়ী পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়। প্রতিদিনই এখানে দর্শনার্থীদের আনাগোনা থাকে। তবে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা গেলে স্থানটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
শিমুলিয়া ঘাটের ইজারাদার মো. কাওছার শেখ বলেন, ‘পদ্মা নদীতে ট্রলারে ঘুরে পদ্মা সেতু দেখা ও নৌভ্রমণের জন্য প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী আসছেন। সাপ্তাহিক ছুটি ও বিশেষ বন্ধের দিনগুলোতে পর্যটকদের ভিড় আরও বাড়ে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রায় এক সপ্তাহের ছুটি থাকায় এখন শিমুলিয়া ঘাটে পর্যটকদের আনাগোনা বেশি।’
লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু বলেন, ‘শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় প্রচুর দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। পদ্মার নির্মল বাতাস, নদীর মনোরম দৃশ্য এবং ট্রলারে ঘুরে পদ্মা সেতু দেখার আকর্ষণে প্রতিদিনই পর্যটকেরা এখানে আসেন। পাশাপাশি ইলিশ খেতেও বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় মানুষের ভিড় হয়।’
তিনি বলেন, ‘মা ইলিশ রক্ষায় চলমান অভিযানের কারণে এ সময়ে রেস্তোরাঁগুলোতে পর্যটকেরা ইলিশ খেতে পারছেন না। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। কেউ কোনো সমস্যায় পড়লে প্রশাসনকে জানালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পর্যটকদের সার্বিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সচেষ্ট রয়েছে।’
