ব্যাঙ্কের চোখে চলছে নিয়মমাফিক লেনদেন। কিন্তু আসলে কোটি কোটি টাকা স্রেফ চুরি যাচ্ছে! এমনই অবিশ্বাস্য কাণ্ড ঘটেছে সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ায়। জানা গিয়েছে, অন্তত ১৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে এইভাবে। ব্যাঙ্ককর্তারা সমস্ত প্ল্যাটফর্ম তন্নতন্ন করে খোঁজার পরেও এই লেনদেনের খোঁজ মেলেনি বলেই খবর। উল্লেখ্য, আগামী বছর এই ব্যাঙ্কের অংশীদারিত্ব বিক্রি হওয়ার কথা ছিল।
ঠিক কী ঘটেছে? ব্যাঙ্ক সূত্রে খবর, গত ১৫ থেকে ১৭ অক্টোবরের মধ্যে মোট ১৮৭টি লেনদেন হয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সেটলমেন্ট অ্যাকাউন্ট (যে অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অনলাইন লেনদেন সম্পন্ন হয়) থেকে ১৩.৯৭ কোটি টাকা স্রেফ গায়েব হয়ে গিয়েছে। এই লেনদেনের পুরোটাই হয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কে এসএফএমএস সার্ভার থেকে। বিপুল অঙ্কের এই অর্থ ৩৬টি অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সেই লেনদেনের হদিশই মিলছে না!
টাকা চুরির প্রথম দিন অর্থাৎ ১৫ অক্টোবর মাত্র ৬টি লেনদেন করেছিল জালিয়াতরা। সেদিন ‘সাফল্য’ পেয়ে সম্ভবত উৎসাহ বাড়ে। পরের দুই দিন যথাক্রমে ৮৮ এবং ৯৩টি লেনদেন হয়েছে। সরানো হয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। কিন্তু ব্যাঙ্কের কোনও শাখা, মোবাইল ব্যাঙ্কিং, ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং, ইউপিআই-কোথাও সেই লেনদেনের প্রমাণ নেই। কিছুতেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কোন লেনদেনের মাধ্যমে টাকা সরানো হয়েছে।
গোটা ঘটনায় পুলিশে এফআইআর দায়ের হয়েছে। কিন্তু পুলিশ আধিকারিকরাও হতবাক গোটা ঘটনায়। সূত্রের খবর, লেনদেনগুলি এমনভাবে উধাও হয়ে গিয়েছে যে টাকা চুরির প্রক্রিয়াটা ধরা খুবই কঠিন। লেনদেনের হদিশ না মিললে জালিয়াতদের চিহ্নিত করাও কার্যত অসম্ভব। যদিও প্রশ্ন উঠছে, ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় এতবড় কাণ্ড ঘটল কী করে? সকলের চোখ এড়িয়ে কীভাবে উধাও হয়ে গেল আমজনতার সঞ্চয়ের কোটি কোটি টাকা? উত্তর অধরাই। আপাতত অজ্ঞাতপরিচয়দের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
