বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো মানেই নস্টালজিয়া, উন্মাদনা আর আলোর রোশনাই। আর এই উৎসবের আমেজকে দ্বিগুণ করতে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে এসে গেছে এক্কেবারে টাটকা এক ধামাকা। ভারতের প্রাচীনতম দেশীয় রেকর্ড লেবেল ‘হিন্দুস্থান রেকর্ড’—যা ১৯৩২ সাল থেকে প্রায় এক শতাব্দী ধরে বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য বহন করে চলেছে—দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরিয়ে আনল তাদের সেই পুজো অ্যালবামের ঐতিহ্য! আর এই কামব্যাকটি হলো এক্কেবারে জেন-জিদের মন জয় করার মতো এক হাই-ভোল্টেজ পুজো অ্যান্থেম দিয়ে, যার নাম ‘ঢ্যাং কুড়াকুড় দুর্গা ঠাকুর’।
এই গানটি কেবল কতগুলো সুরের সমষ্টি নয়, ঢাকের তালে মোড়া এক আবেগের নাম। গান শুরু হয় শরৎকালের শিউলি ও কাশফুল, পবিত্র গঙ্গা এবং কুমটুলির মাটির সোঁদা গন্ধের পরশ দিয়ে। এরপর ক্রমান্বয়ে তা এগিয়ে চলে ষষ্ঠীর বোধন, সপ্তমী, অষ্টমীর অঞ্জলি, নবমী এবং দশমীর সিঁদুর খেলার আনন্দ পেরিয়ে বিজয়ার সেই মিষ্টি-তিক্ত স্মৃতির দিকে।
গানের সবচেয়ে অনন্য বিষয়টি হল এর একটি সহজ কিন্তু গভীর সত্যি—বছরের এই ক’টি বিশেষ দিনেই যেন মা হয়ে ওঠেন আমাদের হৃদয়ের একমাত্র ঠিকানা। আর গানটির অন্তরে বারবার ফিরে আসা সেই চেনা প্রতিশ্রুতি ‘আসছে বছর আবার হবে’—পুরো উৎসবের রেশে এক মায়াবী আলো জ্বেলে দিয়ে যায়।
এই গানটিকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন বর্তমান প্রজন্মের সেরা কিছু সঙ্গীতশিল্পী -
অঙ্কিতা ভট্টাচার্য: জি বাংলা ‘সা রে গা মা পা’(২০১৮-১৯) বিজয়ী এবং জাতীয় স্তরে ‘দিল হ্যায় হিন্দুস্তানি'’-খ্যাত অঙ্কিতা তাঁর লোকসংগীতের নিজস্ব রঙ এবং সমসাময়িক শক্তির দারুণ মিশ্রণে গানটিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর জনপ্রিয় ফোক ট্র্যাক ‘কমলা’ তাঁকে বাংলার উদযাপনের কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
মেক মল্লার: এই প্রতিভাবান মিউজিক কম্পোজার ও অ্যার্ঞ্জার জুটি তাঁদের মেলোডি-প্রধান সৃষ্টি ও চমৎকার প্রোডাকশনের মাধ্যমে গানটির স্পন্দন নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
সোমরাজ দাস: সমসাময়িক, চলচ্চিত্র ও উৎসবের গানে জনপ্রিয় গীতিকার সোমরাজ দাস—যিনি এর আগে ‘মন আমার কেমন কেমন করে’ এবং ‘উমা আসে নতুন সাজে’-র মতো গান উপহার দিয়েছেন—তিনিই এর চমৎকার ও ছন্দময় কথাগুলো লিখেছেন।
১৯৩২ সাল থেকে শুরু হওয়া ভারতের অন্যতম প্রাচীন এই মিউজিক লেবেলের পুজো অ্যালবাম একসময় প্রতিটি বাঙালির ঘরে ঘরে এক সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হত। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের মন জয় করে আসা সেই ঐতিহ্যবাহী লেবেলটি আজ আবার হাত ধরেছে নতুন প্রজন্মের। পুজোয় সবাইকে একসুরে নাচাতে এবং আনন্দে মাতাতে তৈরি এই পুজোর নতুন গান ইতিমধ্যেই তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে ঝড় তুলেছে।
